বাড়ির মাঝে ঝুলন্ত- উদ্যান
বেশদিন আগের কথা নয়। ঢাকা মেট্রো স্কাউস এর বার্ষিক তাঁবুবাস মৌচাকে প্রথমবারের মত আমরা ডিসপ্লে করলাম। আমাদের ঐতিহাসিক ট্রাইএ্যাংগেল শেয়ার লেগের তৈরি গেটটি। রেঙ্গুন বাঁশের তৈরি মেটে লালচে কালারের বাঁশ আর সাথে শনের দড়ি। অদ্ভুত সৌন্দর্য যার প্রশংসার তারিফ কুড়িয়েছে দলের মাহবুব, রোভার মুট পর্যন্ত। আমাদের গ্যাং-এর পাইওনিয়ারিং বুজুর্গ সে। যাই হোক দুটো কপিকল যখন ট্রাংক থেকে কাঁধে ঝুলিয়ে সামনে আনলো ইশতিয়াক তখন মাথায খেলছে স্হিতি-গতি বিদ্যার অংক আর আছে গার্ডেনিং ব্যাজ। পানি দিয়ে গ্রুপ লিডারের দেয়া গাঁদা ফুলের গাছ সহ ঝুড়িটা হেফাজত করছিল জনি।
সদ্য ফোটা গাঁদা আর সদ্য খাওয়া পেটে ফুলকপি প্যাচ খেয়ে ছলকে বেরুলো বুদ্ধি। ইউরেকা! কপিকল দিয়ে ঝুলিয়ে দেয়া হবে ফুলের ঝুড়ি। ঘটনার কারগুজারী দিলাম এই কারণে যে কলম নিয়ে খোঁচাখুচি করছি। ইনটেরিয়ার ডেকোরেশন ও হোম ইনডোর গার্ডেনিং এর ভাবনা হ্যাংগিং বাস্কেট বা ঝুলন্ত ঝুড়ি নিয়ে। সূচনাটি তাই অতীত থেকে নেয়া, জীবন থেকে পাওয়া। আপনার বাড়ি যেমনই হোক ছোট কিংবা বড়, পাকা কিংবা কাঁচা আর যদি হয় এপার্টমেন্ট, তাহলেই চলবে।
ব্যাবিলনের শূন্য উদ্যান সম্পর্কে না জানলেও বাড়িতে একটা শূন্য উদ্যান তৈরি করেই ফেলতে পারেন।
তাহলে জেনে নিন এই ম্যাচের খেলার সরঞ্জাম আর নিয়মাবলী:

ওয়ার্ম আপ এন্ড ড্রেসিংরুম প্রিপারেশন:

১. টার্গেট নির্ধারণ করুন। বাড়ির বেলকনীতে, গেইটে, ঘরের দেয়ালে নাকি ঝাড়বাতি জায়গায় গ্যাপ শট খেলবেন? ঝড় বৃষ্টির আবির্ভাব, পীচ ভেজা কিংবা প্রচন্ড বাতাসে বল স্কিট করে কিনা-মানে বলতে চাচ্ছি আলো বাতাস আর যা গাছের চাহিদা নির্বাচিত স্হানটিতে ইনতেজাম হয় কিনা?

২. বডি ফিটসেন, স্টাইল এবং বলিং ফিল্ডিং দেখে যেমন হেলমেট না কাপ, থাই প্যাড এবং ইত্যাদি ….. লাগে তেমনি ঝুড়ি মানে বাসকেট কেমন নেবেন, নাকি বাঁশে বেতের কুঞ্চি ল্যাশিং বানাবেন অথবা কাঠ মিস্ত্রীর দোকানে যাবেন ঠিক করে ঝুড়ির মাসলা হাল করুন। বাজার থেকে প্লাষ্টিকের ঝুড়িও কিনতে পারেন।

৩. ঝুলোবেন না? শিকা বানাবেন কিভাবে? বৈচিত্রময় চুলের বেনির মত গেরো, ডায়মন্ড নট, শিলিং এক কথায় দড়ির কাজ ব্যাজ।

৪. সব ঠিক করে নিশ্চয়ই চিন্তা করছেন ওপেনিং করবেন কিভাবে? ভয় নেই এক্সপ্রেস ছুঁড়বো না। তাই ডাক মারার সম্ভাবনা কম।

ইনিংসের সূচনা :


আরিগাতো গুজাইমাসতা।

 

১. ঝুড়ির মধ্যে এক্ষেত্রে আপনি গাছ স্হাপন করবেন। দু’টো পদ্ধতিতে করতে পারেন। একই জাতীয় গাছই শুধু রাখবেন অথবা সিঙ্গেলস, ডবল, ছয়-চার সব মিলিয়ে বৈচিত্রময় বর্ণাঢ্য ইনিংস খেলবেন।

২. গাছ ঝুড়িতে লাগানোর জন্য, হালকা ছোট পাত্র, (ছোট প্লাষ্টিকের, টিনের কিংবা কনডেন্স মিল্কের কৌটা) নিন। তাতে ৫০% দোঁয়াশ/ বেলে দোঁয়াশ মাটি এবং ৫০% জৈব পদার্থ ভরে নিন।

৩. ছোট পাত্রগুলো/ পাত্রটি ঝুড়ির মাঝে বসিযে ফাঁকা জায়গাগুলো খড় কিংবা শুকনো দুর্বা দিয়ে ভরে দিন যাতে পাত্রগুলো বাইরে থেকে দেখা যায় না। আর একটা স্টাইলও হয়।

৪. পাত্রের তলায় ফুটো করে জল নিষ্কাশনের ব্যবস্হা রাখতে কিন্তু ভুলবেন না। পাত্র বসানোর পূর্বে ঝুড়ির তলায কিছু পুরনো দৈনিক দিয়ে দিন, ব্লোটিং পেপার হিসেবে।

৫. কি গাছ লাগাবেন? আপনার পছন্দ সই। পাতা বাহার, অর্কিড, ক্যাকটাস, স্পাইডার প্লান্ট, টাইম ফুল, বাহারী কুচ, পাতা বট, এ্যাসপ্যারাগাস, বাগান বিলাস, ক্যালিসিয়া, ফার্ণ, ইপিসকিয়া, নয়ন, তারা লাল পাতা, লেমন গ্রাস, চায়না গাঁদা, বেলী, অপরাজিতা, রজনীগন্ধা, বিলবারজিয়া, পাথর কুচি, দুরন্ত, কাটা মেহেদী, ক্ষুদে বাঁশ, পুদিনা পাতা, তুলসী, ডেনট্রোরিয়াম ইত্যাদি যা ছোট জাযগায় লাগানো যায়।

৬. শীতে ক্যালেডুলা, ডায়ান’াম, কসমস, জগিয়া ইতাদি গাছও লাগাতে পারেন।

৭. ঝুড়িতে যদি একটা গাছ লাগান তবে কোন কথা নেই। আর যদি একাধিক গাছ লাগান তবে একটা কথা আছে। তা হলে এখানে গাছ নির্বাচন, জন্মানোর ক্ষেত্রে শারীরিক ও ফুল ধারনের বৈশিষ্ট্য এবং আলোর প্রায়োজনীয়তা এবং সর্বোপরি আপনার ব্যক্তিগত রুচি এবং হাত যশ তথা পাকা হাতের নিপুণ শৈলীর প্রচ্ছন্ন প্রতিফলন ঘটাতে হবে। যেমন- আমি স্পাইডার প্লান্টকে পাশে দেই কারণ তার বংশ বৃদ্ধির জন্য যে ঝুড়ি নামে ও ছোট ছোট গাছ হয় তা আমার ভালো লাগে। একপাশে ফার্ণ ও মাঝে একটা লাঠি দিয়ে মানি প্লান্টকে দাঁড় করিযে দেয়া আমার একটা চিরকালীন আদত।

৮. গাছ লাগিয়ে ঝুড়িটিকে নিচে কয়েকদিন রেখে দিন। যাতে সব গাছ টিকলো কিনা পর্যবেক্ষণ করতে পারেন।

৯. শিকায় ঝুলন্ত গাছে যখন ফুল আসবে কিংবা বৈচিত্রময় বাহারী পাতার রং- এ যখন রূপবতী হয়ে উঠবে তখন নিজের অজান্তে নিজেই বলে ফেলবেন- এমন জিনিসই তো চাচ্ছিলাম।

১০. সমস্যার কথা বলি। সাফল্যজনক ইনিংসের মাঝে স্পিন বল করে গ্যানজামে ফেলে অনেক সময় পিঁপড়া, ছত্রাক এবং পোকামাকড়। কীটনাশক রসের স্প্রে, তামাক পাতা ভিজিয়ে রেখে তার পানি স্প্রে কিংবা ঠেকে গেলে এরোসল কিংবা ম্যালাথিয়ন ইত্যাদি।

১১. এক বন্ধুর বাড়িটা একটা আশ্চর্য জিনিস দেখলাম। তাই অপ্রাসঙ্গিকভাবে সেটাই বলছি। তার ইচ্ছামত সে একটা ২-২.৫ হাত লম্বা এবং ২-২.৫ হাত চওড়া কাঠের লগ (ঐ যে আমাদের সার্টিফিকেটে একটা বি.পি.র আঁকা ছবি দেয়া আছো লগের উপর কুঠার) জোগাড় করল। মাঝখানে কুঠার ও অন্যান্য যন্ত্রপাতি দিয়ে কেটে সুন্দর একটা নালা সদৃশ গর্ত বা ট্রেনচ কেটে তাতে গাছ জন্মানোর উপযোগী উপাদান (মাটি-১ ভাগ, করাতের গুড়া-১ ভাগ, ছাই ০.৫ ভাগ, জৈব পদার্থ ১ ভাগ) দিয়ে বিভিন্ন হার্ব জাতীয় ফুলধারী গাছ এবং ফার্ণ, শতমূলী, মানি প্লান্ট, স্পাইডার প্লান্ট এবং ক্যাকটাস দিয়ে চমৎকার একটা উদ্যান বানিয়ে আরও চমৎকার করে তার পাইওনিয়ারিং জ্ঞানকে কাজে লাগিয়ে তা ঝুলিয়ে দিয়েছে তার বেলকনীতে যাবার দরজার ওপরে। ১০ মিনিট ধরে তাকিয়ে ছিলুম জিনিসটার দিকে। প্রথম দর্শনেই জিনিসটার প্রেমে পড়ে যাই। তাই আপনাদের না জানিয়ে পারলুম না।

১২. শেষ বলে ছক্কা মেরে লেখাটা শেষ করতে পারলুম কিনা জানি না। তবে লাস্ট টিপস, গাছের স্বাস্হ্য ও ফুল ধারণ খারাপ হয়ে গেলে পচা তরল খৈল গাছের গোড়ায় দিয়ে দেবেন। ব্যাস পিচ একেবারে ওয়ান ডের ব্যাটিং গ্রাউন্ড।

Leave a Reply

You can use these tags: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <strike> <strong>