আমি তখন রাইফেলস পাবলিক স্কুল ও কলেজের ছাত্র, ক্লাস সেভেন কি এইটে পড়ি। তখন আমার এক মামাতো ভাই নীল ডুমুর থেকে বদলি হয়ে এলেন ঢাকা হেডকোয়ার্টারে। মাঝে মধ্যে আজিমপুরে আমাদের বাড়ি আসেন। সামরিক জীবনের বিচিত্র সব অভিজ্ঞতার গল্পের ঝুড়ি নিয়ে আমাদের আড্ডা জমত। এই রকমই একদিন এলো শাসি-র বর্ণনা। মামাতো ভাইটির খাবার দাবারে একটু ছুচি বাই ছিল। একদিন নাকি তিনি খাবারের সাথে দেয়া লেবুর খোসাটি চিবিয়ে খেয়ে ফেলেননি। তারই জন্য যথারীতি শাসি-। যাক সে কথা। কথাটা পাড়লুম অন্য কারণে। সে কথা বলার আগে আর একটা গপ্পো। সেবার ঈদে গিয়েছি সবাই সংসদ ভবন দেখতে। সঙ্গে আমার আমেরিকা থেকে আগত চাচাতো ভাই বোনের দল আর সিঙ্গাপুরের ফুফু গ্রুপ। আমার বিচিত্র কারণে অদ্ভূত এক ভালো লাগা কাজ করতো উত্তর প্লাজার সামনের বিশাল ফাঁকা এবং চওড়া রাস-াটা দিয়ে হাঁটতে। ফাঁকা এবং চওড়া রাস-াটা দিয়ে হাঁটতে ফাঁকা রাস-ায় হাঁটবো, পরিস্কার, পাতাটাতা নোংরা নেই। ফুটপাতের পামওয়েল গাছগুলো এবং সবশেষে চটপাট, অ্যামেরিকা পার্টি লেগে গেছে তার আদি শেকড়ের খোঁজে (জড়ড়ঃং-এর নিমো কাহিনীর মত) আর সিঙ্গাপুরী তার হাই স্কুল এ্যাসাইনমেন্ট এবাউট বাংলাদেশ, সাথে একটা ম্যাপের আবদার ইত্যাদি। সবাইকে একটু অবাক করে বললুম-চল বাংলাদেশী রোড সাইড ডিস, ভেরী ফেমাস, সবাই তৈয়ার, জামাত সহকারে বসিয়েছি। আমি ম্যানেজমেন্টে। কারণ একে তো বলা বাংলাদেশী তারপর ঢেকার (উচ্চারণগত) হট এবং হিট চট্টপটি। সো….। কার কতোটা মাল মসলা হবে বলছি আর সেই অনুযায়ী তৈরি করাচ্ছি। কিন’ নজর কাড়লো বিচিত্র একটা কুচোনো জিনিস। ভাই এটা কি দিলেন? নেত্রকোনার আঞ্চলিক ভাষায় যা বোঝালো তা নিম্নরুপঃ “ইহা লেবুর ছালের কুচি, সূক্ষ্ম করে কুচোনো। স্বল্প পরিমাণ প্রয়োগে চটপটি সুস্বাদু হয়।” গল্প শেষ, কাজে আসি। আজ এত বছর পরে আধুনিক প্রাণ রসায়নের অগ্রগতি গবেষণা পত্রে আজব কিছু নাম ও উৎস পড়েই অতীত রোমস’নে লেগেছিলাম। ভিটামিন চ, ঐ এবং ক নামগুলো সরেজমিনে এমনকি দু’বছর বায়োক্যামিষ্ট্রি পড়ার সময়ও পাইনি। পেপারিকা নিয়ে খোঁচাখুচি করার সময়ই সমুজ্জ্বল লেবু। ভিটামিন সির সাথে এদের সাথে আমার পরিচয় এবং ঘনিষ্ঠতা। খাদ্য প্রাণ বা ভিটামিনের নাম আর কাজের ফিরিসি- তো সবাই কম বেশি জানেন। তবে চ, ঐ এবং ক সম্পর্কে কিছু সংগৃহীত তথ্য অনলি ফর ইউ। ভিটামিন সি এর সাথে এদের অতীব ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে তবে এরা তাদের নিজস্ব বৈশিষ্ট্য সমুজ্জ্বল। নিচে তা বর্ণিত হলো ঃ (এগুলো জটিল রাসায়নিক বিষয়াদি পরিত্যাগ করা হয়েছে, আর যথেষ্ট জ্ঞানের অভাবে কিছু শব্দ তরজেমা করা সম্ভবপর হয়নি) ভিটামিন-পি (ঠরঃরসরহ চ) রাসায়নিকভাবে এটি এক প্রকার ফ্লাভোনো গ্লুকোসইড (ঋষধাধহড়-মষঁপড়ংরফব) - সাইট্রিন (ঈরঃৎরহ) নামে অভিহিত করা হয়। - ঐবংঢ়বৎরফরহ (হেসপিরিডিন) ও বৎরড়ফরপঃুড়ষ নামে গ্লুকোসাইডের জটিল মিশ্রণ। উৎস ঃ যে কারণে দুটি গল্প বলেছি। আসলে এদের পাওয়া যায় আমাদের ফেলে দেওয়া লেবুর খোসার মধ্যেই। লেবুর খোসার উপরের আবরণের ঠিক নিচে সাদা নরম স-রটিতে এদের বসবাস (প্রায় সকল প্রকার লেবু, কমলা, মস্বী, মাল্টা প্রভৃতি)। তাছাড়া পোরকা (মিষ্টি মরিচ)সহ আরও কিছু ভিটামিন সি সমৃদ্ধ খাবারে এদের পাওয়া যায়। কাজ ঃ গবেষণায় দেখা যায় গেছে শুধু বিশুদ্ধ ভিটামিন সি অপেক্ষা লেবুর রস, পেপারিকার জুস ইত্যাদিতে ভিটামিন পি (চ) থাকার কারণে এটি দেহে বিপাকে এবং কার্যকারিতার মাত্রাকে বাড়িয়ে দেয়। কৃত্রিম ভিটামিন সি গ্রহণের ফলে যে জটিলতা (বিশেষত রক্তে সংশ্লেষণে) দেখা যায, তা অনেক অংশে কমে যায়। ভিটামিন পিকে চবৎসবধনরষরঃু ঠরঃধসরহ বলা হয়ে থাকে। এই জন্যই আয়ুর্বেদ এবং হেকিমী ডাক্তারীতে ভেষজ এবং প্রাকৃতিক উপাদানের এত ব্যবহার দেখা যায়। যা ব্যবহারে দেহে কোন পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া দেখা যায় না। যেমন দেখা যায় না জৈব সারে, অথচ কৃত্রিম রাসায়নিক সারের ও মিশ্রণের প্রভাব আমাদের দেহ, মন এমনকি মসি-স্কের উপরও পড়ে। দেহ ঘড়ি বানিয়েছেন তিনি, প্রকৃত সাজিয়েছেন যিনি তিনিই জানেন কিসে ভারসাম্য ভালাই। অ্যাকসান বাট নো বি-অ্যাকসান। রাত বেড়েছে। প্রায় আড়াইটা। তার উপর গ্র্যাজুয়েশন লেভেলের শেষ অর্থাৎ, ফাইনাল পরীক্ষা। তাই নব্য প্রচলিত কোর্স ক্রেডিট সিস্টেমের ঐতিহাসিক ব্যবস’াপত্র-ওঃ রং ধ ধংংরমহসবহঃ ভড়ৎ ুড়ঁ. ঞড়ঢ়রপ ভিটামিন জে (ঔ) এবং এইচ (ঐ) আর লিখতে পারব না। সায়োনারা-সায়োনারা।

তেতো’র যত গুণ

উত্তম কুমার অভিনীত ‘ছদ্মবেশী সিনেমাটা দেখছিলাম। আর হাতে ছিল সাপ্তাহিক ২০০০-এর চলতি সংখ্যার বাইপাস সার্জারী বিষয়ক কলামটি খোলা। রেল লাইনের দুইটি যেমন কখনও মেলে না কিন’ একটা ছাড়া অন্যটা অচল ঠিক তেমনি কোলেস্টরাল, ব্লকিং ইত্যাদির সাথে সিনেমার অন্যতম নায়ক তার পার্শ্ব নায়িকাকে বলছে- “হ্যাঁ ভাল করে বুঝতে হবে করলা আর উচ্ছে’র মধ্যে বেসিক একটা পার্থক্য আছে। ইত্যাদি ইত্যাদি ডায়ালগ আমার দুটো কাজ অর্থাৎ সিনেমা দেখা এবং পত্রিকা পড়া বন্ধ করে রাত ৩টায় বসিয়ে দিল কলমের ট্রেন চালাতে। গন-ব্য জানি না তবে বিভিন্ন ষ্টেশনে যা নিয়ে আলোচনা করব তার ইংরেজি নেম ইবঃঃবৎমড়ঁৎফ বাংলায় তেতো কুমড়ো গোত্রীয় ফল বলা যেতে পারে। আর একটা গল্প বলি ঃ ‘এক বিদেশী বললেন রাবিস! তোমরা যে কিসের ছাইপাস পচা মাছ খাও না। কি যেন বলে শুটকি (উৎরবফ ভরংয) এখানে বলে রাখা ভাল এক দেশের বুলি আর এক দেশের গালি। তাই শুটকি বিদ্বেষী বিদেশীর বইতেই যখন পাওয়া গেল উৎরবফ ভরংয পড়হঃধরহ সড়ৎব ঢ়ৎড়ঃবরহ ঃযধহ ভৎবংয ভরংয তখন আমি চেপে গেলাম। আমি চালাক কিনা বলতে পারিনে- তবে এ কথা ঠিক কখনই আমি খানা খাজানা জাতীয় রেসিপি শোর চ্যানেলে একটানা থাকি না। বরং নিজস্ব পদ্ধতি মোতাবেক চলে যাই ঔঁসঢ় টি উরংপড়াবৎু চ্যানেলে আর ঠিক ফিরে আসি রেসিপির জবপধঢ় দেখানোর সময়। বলাই বাহুল্য সিদ্দিকা আপা থেকে শুরু করে সবার রেসিপি শোর জবপধঢ় দেখেই আমি ডিসটি তৈরি করে ফেলি ঠিক ঠিক। বাংলাদেশের জনতাকে একটু উসকে দিলেই জ্বলে ওঠে। তাই রাসভারী বৈজ্ঞানিক আলোচনা নয়- ইবঃঃবৎমৎড়ঁহফ/ উচ্ছে ও করলার সাতকাহন এখন জবপধঢ় ভড়ৎস এ আপনাদের জন্য। তাহলে আসুন পাঠক পড়ে নেই “তেতোর যত গুণ।” প্রকল্পের শিরোনাম ঃ বৎসর ব্যাপীয়া সুক্তভক্ষণের নিমিত্তে তেতো উৎপাদন প্রকল্প। উদ্দেশ্য-১ ঃ সুক্ত রাধিবো মনে রাখিবো আমি বাঙালী ২. ঈযধৎধহঃরহ এর রসায়ন-সুস’ দেহ মন। ৩. অর্থের অভাব-খারপ স্বভাব তাই সারা বছর আয় ঘড় ভয়। ৪. স্কাউট কিংবা রোভার মিলবে ব্যাজ আর অ্যাওয়ার্ড। কমিটি ঃ নিজে বানাও। তথ্যের/প্রযুক্তি ঃ লর্ড ভানু বাবুর এনসাইক্লোপিডিয়া মানে নিচে দেখ। নাম ঃ করলা, ক্ষুদেটা উচ্ছে, আমি বলি তেতো। ইংরেজী ঃ ইবঃঃবৎমৎড়ঁহফ বৈজ্ঞানিক নাম ঃ গড়সড়ৎফরপধ পযধৎধহঃরধ খ লম্বাটে বড় মোটা করলা কিংবা ক্ষুদে তেতো উচ্ছেই হোক না এরা বড় ভাল, বাঙালি জাতির গর্ব দেশ না বুঝুক আয়ুর্বেদীয় জ্ঞানের আলোকে আজ সারা বিশ্বে বাত, ডায়াবেটিস, পেটের গন্ডগোল, কোলেস্টরাল নিয়ন্ত্রণ একে দিয়েছে বিশ্ব জননেতা। কিন’ এর উৎপাদন ও বিস-ৃতি কাঙিক্ষত মাত্রায় নয়। এক পরিসংখ্যান থেকে দেখা যায় খরিফ সবজি হিসাবে এর চাষ হয় ৫.২৬ হাজার হেক্টর জমিতে এবং ফলন ৩.৯ টন / হেক্টর হারে মাত্র ২১ হাজার মেট্রিক টন, রবি ঋতুতে অন্যান্য সবজির সাথে দৌড়ে সে ট্র্যাকেই নেই। অথচ দেশে বিদেশে চাহিদা আছে বিপুল। জাত ঃ বাংলাদেশে ছোট বড় মোটা-চিকন, লম্বা মিলিয়ে বেশ কিছু স’ানীয় জাত দেখা যায় কিন’ যাদেরকে কোন বৈজ্ঞানিক সংগ্রহ পদ্ধতিতে আকিকা দেয়া হয়েছে বলে আমার জানা নেই। জলবায়ু, জমি ও খাট ঃ উষ্ণ ও আর্দ্র প্রয়োজন। পূর্ণ আলোকিত স’ান হলে খুব ভাল। দেশে সবুজায়নের ফলে উঠোন যেভাবে অন্ধকার হচ্ছে তাই এটি এখন বাণিজ্যিকভাবে মাঠ ফসল হিসাবে বিবেচনা করা যেতে পারে। সুনিষ্কাশিত উচু জমি। দো-আশ থেকে এঁটেল দো-আশ মাটিতে ভাল হয়। খুব শীতে দু’এক মাস অসুবিধা হতে পারে তবে ঐ যে বললাম পূর্ণ সূর্যালোক এবং উন্মুক্ত মাঠ ফসলের মতো চাষের সমাধান হতে পারে। ফুলধারণের সমস্যার জন্য হরমোনের ব্যবহার তো আছেই। জমি তৈরি ও বীজ বপন ঃ - খাদ্য পদ্ধতিতে বছরের যে কোন সময় শুধু কনকনে দু’মাস বাদ। - এখন আধুনিক হচ্ছি সব কিছুতেই। তাই খড়ে আচ্ছাদনের বদলে বাউনা ব্যবহারই শ্রেয়। এক্ষেত্রে ময়মনসিংহের কৃষকদের নাইলনের সূতা পদ্ধতি বেশ সাশ্রয়ী। সেচ ও আন-ঃপরিচর্যা ঃ - যখন যেমন লাগে তবে মাটিতে সব সময় জ্যো থাকা দরকার। - খেয়াল রাখতে হবে মাচায়/ বাউনীতে গাছ ওঠার পর গোড়া থেকে যেন আর কোন শাখা না গজায়। ফসল সংগ্রহ ও বাজারজাতকরণ ঃ - গাছ লাগানোর এক মাসের মধ্যেই কোন কোন জাতের ফল ধরে আবার কিছু জাত আছে সারা বছর। পটুয়াখালীতে আমার বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রাবাসের করিডোরের গ্রিলে ফল দিয়ে থাকে। - যদি গাছ মরার মত হলেই খাদাতে মাসখানেক আগে আবার চারা লাগানো যায় এবং পূর্বের গাছ মরে গেলে নতুন করে গোড়ায সার পানি দেয়া যায় তাহলে প্রায় ৭-১০ মাস ফসল পাওয়া সম্ভব। পুষ্টিমান ঃ (প্রতি ১০০ গ্রাম আহার উপযোগী অংশে) শর্করা-১০.৬ গ্রাম আমিষ-২.১ গ্রাম চর্বি-১ গ্রাম ক্যারোটিন-১২৬ গ্রাম ই১ - ০.০৭ সম ইং - ০.০৬ সম প - ৯৬ সম পধ - ২৩ সম ঋ - ২ সম. আয়-ব্যয় ঃ যে দাম তাতে ঘড় ষড়ংং গুণ বর্ণনা করতে যেয়ে প্রযুক্তি লিখে ফেললুম। সব কিছু গুলিয়ে যাচ্ছে? না ঠিক আছে? প্রস-াবনা ঃ আমি জানি না এই উৎপাদন প্রযুক্তি জেনে কাজে আসবে কিনা? যাক গে আমার একটা কাজ করে দেবেন প্রিয় পাঠক পাঠিকা কোন দিন লিখে কোন বদলা চাইনি, আজ চাইছি শুধু গবেষণার খাতিরে। সারের পরিমাণ ও প্রয়োগ পদ্ধতি ঃ সার ডোজ শম/বিঘা/ জমি তৈরির সময় শম/বিঘা পীট তৈরির সময় শম/বিঘা/ ১০-১৫ দিন বয়সে ৩০-৩৫ দিন বয়সে গোবর ২৫০০ ১৫০০ ১০০০ - - ঞঝচ ১৫-২০ ৮-১০ ৮-১০ - - ইউরিয়া ২০-২৫ ৮-১০ ১০-১৫ - ৫-১০ গচ ২৫-৩০ ১০-১২ ৮-১০ - ৫-১০ জিপসাম ১০ ১০ - - - জিংক-সার ১ ১ - - - বোরিক এসিড ১ ১ - - - প্রতি জেলা থেকে পারলে প্রতি উপজেলা এমনকি ইউনিয়ন থেকে যে কেউ তার এলাকার নাম লিখে ২০টি করে উচ্ছে এবং ২০টি করলার বীজ আলাদা প্লাস্টিক প্যাকেটে অর্থাৎ পিচ্ছিজাত এবং বড়জাত স’ানীয়ভাবে পাকা ফল থেকে সংগ্রহ করে নিম্নের ঠিকানায় পাঠালে এই জার্ম প্লাজম থেকে একটি গবেষণা ভবিষ্যতে আর্য়ুবেদ এবং খাদ্য দুইই বাঙ্গালীদের সেই গগনে সত্য করে দেবে। সালাম এবং আদাব।

Leave a Reply

You can use these tags: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <strike> <strong>