কয়েক বছর আগে স্কাউট ক্যাম্পে গিয়েছি গাজীপুর। মৌচাক এবং তার পার্শ্ববর্তী বাজারগুলোতে দেখি বিচিত্র দুই জিনিস, নাম-মিষ্টি মরিচ আর লেটুস। খুব কাটতি নাকি এগুলোর। বার্গার, পিৎজা সহ ফাষ্ট ফুডের প্রয়োজনীয় উপাদান। তখন তো সবে এগুলো আসছে আমাদের খাদ্য অভ্যাসে। তাহলে চিন-া করুন বর্তমান চাহিদা। বর্তমানে তো উত্তরা বনানী নয় সারাদেশেই দেখা দিয়েছে ফাষ্ট ফুড ক্রেইজ। তার সাথে ডাক্তারের পরামর্শ। স্বাস’্য সচেতন থাকুন, বেশি করে সবজি ও তাজা সালাদ খান, মুটিয়ে যাওয়া প্রতিহত করুন ইতাদি। সালাদ সবজি হলেও এর রকমারী ডিস রযেছে যা দেখে রীতিমত ভিমড়ি খেতে হয়। এর প্রতিযোগী ফসল হিসেবে আছে গাজর, মুলা ও কুমড়া। কিন’ বর্তমান অবস’া ও বাজার লেটুসের পক্ষে বলেই আমি মনে করি। তাই আগ্রহীদের জন্য সাহায্যকারী কিছু তথ্য (যা বাস-বে প্রয়োগ করে দেখা হয়েছে)। আশা করি এর ব্যাপক প্রচলন ও উৎপাদন সম্ভব হবে। হতে পারে বাড়ির সবজি বাগানেরও সদস্য। ফসলের নাম বাংলা-লুটস, ইংরেজি খবপঃঃঁপব বৈজ্ঞানিক নাম খধপঃঁপধ ংধঃরাধ াধৎ ঈৎরংঢ়ধ/ ঈধঢ়রঃধঃধ পরিবার- ঈড়সঢ়ড়ংরঃধব উৎপত্তি ইউরোপ ও ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চল। পশ্চিম এশিয়া বলেও মতামত প্রচলিত আছে। ১৬০০ সালে ভারতীয় উপমহাদেশে আগমন বাংলাদেশে এখনও প্রায় অপরিচিত ও অপ্রচলিত সালাদ ও সবজি ফসল উদ্ভিদ তত্ত্ব ও জাত - উদ্ভিদ তত্ত্ব বেশ জটিল। পাতা তথা হেডের বিন্যাসের উপর কয়েক শ্রেণীতে বিভক্ত। - সাধারণভাবে এক ধরনের জাতের পাতা বেশ আটোসাটো গোছানো আরকিছু আছে রকমারীভাবে ছড়ানো কুঞ্চিত কিংবা লম্বা ইত্যাদি। - আমাদের দেশে ডেনমার্ক, জাপান, দক্ষিণ কেরিয়া ও চীন থেকে এবং ভারতীয় কিছু বীজ বাজারে দেখা যায়। - প্যাকেটে ফসলের ছবি সংযোজিত থাকে। বাজারে যে সব নামে পাওয়া যায়- ক্যাপিটাটা শ্রেণীর- ক্রাউন, কুইন ক্রাউন ক্রিসপা শ্রেণী- হোয়াইট বোষ্টন, ব্লাক সিডেড সিম্পসন। এছাড়া গ্রান্ড র্যাপিড, ইম্পেরিয়াল, গ্রেট লেকসসহ বেশ কিছু নতুন হাইব্রিড বীজের প্রচলন দেখা যায়। বীজের সম্ভাব্য প্রাপ্তিস’ান- -গুলিস’ানে ফায়ার সার্ভিস হেড কোয়ার্টারের পূর্বের বীজ মার্কেটে - তাছাড়া প্রসিদ্ধ যে কোন বড় বীজের দোকানে। খাদ্যমান। ভিটামিন (অ) ৯৯০ মিঃ গ্রাম/ ১০০ গ্রাম ভিটামিন সি-১০ মি. গ্রাম লৌহ- ২.৪ মি.গ্রাম ক্যালসিয়াম-৫০ মি. গ্রাম প্রোটিন-২.১ গ্রাম শর্করা-২.৫ গ্রাম ক্যারটিন-৪.৯০ সম এছাড়া তরতাজা পাতার প্রায় ৯৪% পানি থাকে আবহাওয়া ও জলবায়ু তাপমাত্রা সর্বনিম্ন ৭০ঈ সর্বোচ্চ ১৩-১৬০ঈ আদর্শ-১০-১৩০ঈ তাপমাত্রা ২২০ঈ এর বেশি হলে হেড ও পাতা ঝাঝালো হয়ে মান কমে যায়। বাংলাদেশে শীতকালে এর চাষ করা যায়। মাটি -দোয়াশ হতে বেলে দোয়াশ - উর্বর, সুনিষ্কাশিত ঢ়ঐ ৫.৫-৬.৫ চাষ পদ্ধতি ঃ সময়-সেপ্টেমটবর থেকে জানুয়ারী পর্যন- - অসময়ে বাজারে এর দাম চড়া থাকে। বপন পদ্ধতি (বীজহার) ছিটিয়ে বপন-প্রায় ১ কেজি/ হেক্টর (অপ্রচলিত পদ্ধতি) রোপণ-২০০-৪০০ গ্রাম/ হেক্টর (বীজের গুণগত মানের উপর নির্ভরশীল) বীজ তলা ও জমি তৈরি - অন্যান্য শীতকালীন সবজি বিশেষ কপি জাতীয় ফসলের মতই - আগাম লাগালে সেপ্টেম্বরে বীজতলায় চারা তৈরির কাজ শুরু করতে হবে। - ৪/৫ বার চাষ দিযে জমিতে চারা লাগাতে হবে - ৩টি অল্প গভীতা মূলীয় গাছ (গড় ৬০ সে.মি.) তাই - মাঝি ঝুরঝুরে ও হালকা হতে হবে। - বীজতলা হতে খুব সহজে চারা উত্তোলন করা যায় বীজ সম্পর্কিত কিছু তথ্য- -বীজ ১-৩ ঘণ্টা পানিতে ভিজিয়ে ২৪-৪৮ ঘণ্টা কাপড়ে বেঁধে রেখে বপন করতে হয়। (গাজরের মত) -অংকুরোদগমের সময় ৬-১২ দিন - প্রতি আউন্সে বীজের সংখ্যা ২০,০০০ - ২-৩ বছর পর্যন- মেয়াদ থাকে তবে কেনার পূর্বে প্যাকেটের গায়ের বিবরণ পড়-ন। - চারা উৎপাদনে বীজ তলায় বীজ ছড়ানোর পর হালকা বালি দিয়ে ঢেকে দিন। চারা রোপন - চারার বয়স ৩০-৩৫ দিন - দূরত্ব ৩০-৪০ক্ম২০-২৫ সে.মি. (জাত ভেদে ভিন্ন হতে পারে) সার প্রয়োগ - নির্ভর করে জমির অবস’ার উপর তবে গড় নিচের মাত্রানুযায়ী সার দিয়ে ভালো ফলন পাওয়া গেছে। -ইউরিয়া ১৭৫ কেজি/ হেক্টর টি,এস,পি-১২০ কেজি/ হেক্টর এস,পি-১২০ কেজি/ হেক্টর জিপসাম-৮০ কেজি/ হেক্টর (জমির চাহিদানুযায়ী) জিংক সালফেট- ১২ কেজি/ হেক্টর (যেমন পটুয়াখালীর জমিতে দেওয়া হয়ে থাকে) গোবর-৪০০০ কেজি/ হেক্টর খৈল-২০০ কেজি/ হেক্টর - জমি তৈরির সময় গোবর খৈল-এর সাথে ইউরিয়ার অর্ধেক ও বাকি সব সার দেওয়া হয়। - স্বল্পমেয়াদী ফসল বলে লাগানোর ১৫ দিন পর বাকী ইউরিয়া দেয়া হয়। সেচ - পাতা জাতীয় সবজি বলে প্রচুর পানি লাগে। - চারা লাগানোর পর এবং হেড/ মাথা গঠনের সময় অবশ্যই পরিমিত সেচ দিতে হবে। - সব সময় প্রয়োজন মাফিক পানি সেচ দিতে হবে। আন-পরিচর্যা ঃ - আগাছা দমন -নিড়ানী এবং রোগবালাই এর আক্রমণে কীটনাক প্রয়োগ। ফসল সংগ্রহ ঃ - লাগানোর ২৫-৪৫ দিন পরে - পাতা হলুদ হবার পূর্বেই - দূরে মার্কেটিং এর জন্য সেচ বন্ধ করে দিয়ে ১ মাস বয়সী গাছের হেড/ পাতা সংগ্রহ করা হয়। - ২-৩ দিন প্যাকিং করে দূরে পাঠানো যায় - ফ্রিজে সংরক্ষণ না করাই ভালো। ফলন- -২০-৩০ টন/ হেক্টর ১৯৯০ সালের এক হিসাব মতে দেখা যায় বাংলাদেশে প্রায় ১০০ কেজি লেটুসের বীজ আমদানী হয়েছে। কিন’ বর্তমানে ঢাকা সিটি কলেজের পাশের চাইনিজ রেষ্টুরেন্টের সামনের ছোট জায়গার মত আবাদ সব জায়গায় শুরু হয়নি। খানা খাজানার মেনু দেখে ডিস বানাতে যেয়ে অনেকেই ক্ষেপে যান ঢাকা নিউমার্কেট কিংবা গুলশান বনানীর বাজারে এর অপ্রতুলতা দেখে। সব দিক চিন-া করে একবার লেটুসের বাণিজ্যিক চাষের কথা ভেবে দেখবেন কি?