কিছু কিছু বন্ধু বেশ উপকার করে, আর কেউ করে অপকার। উপকার কি অপকার নাকি ব্যাগার বলতে পারব না, তবে এক বন্ধুর পাল্লায় পড়েই আবার একটা লেখা। বিষয়- কাঁটায় কাঁটায় যার সৌন্দর্য, দেহ দেখে যার জুড়ায় প্রাণ, সংগ্রহে পেতে মন করে আনচার, নাম তার ক্যাকটাস, আছে সাথে সাকুলেন্ট। প্রশ্ন করবেন- কেন বললাম ভেজাল? হ্যাংগিং বাস্কেট থেকে অর্কিডে গিয়ে যখন কলম থামিয়ে একটু শীত নিদ্রায় গিয়েছি (ব্যাঙের মত হাইবারনেশন) অমনি খোঁচা, তোর কথামত লিষ্টি মত যদি কেউ হ্যাংগিং বাস্কেটের সূত্রে ক্যাকটাস লাগায়, তা হলেই হয়েছে, মালুম হবে না কখন বাপের খড়ক (থুড়ি- স্যান্ডেল) পিঠে পড়বে শ’টাকার পাউডার পাফ কিংবা স্নো বল (গধসসরষষধৎরধ) পচানোর দায়ে। চিন-া করলুম- বেমালুম ভুলে গিয়েছিলুম ব্যাপারটা! ঠিক তো ক্যাকটাস- সাকুলেন্টে যদি একই ঘটনা ঘটায় তবে রক্ষা নেই। যশোহা বৃক্ষের দেশে- বা এই জাতীয় একটা বই পড়েছিলাম হুমায়ুন আহমেদের। ভুলে যাওয়া স্বভাব বলে- এর ঘটনা ভুললেও নামটা ভুলিনি। একটা কঠিন ঘটনা এই যে, মানুষ তার নিজের প্রয়োজনেই সব কাজ করে। জল জংলা কিংবা দেশ-দেশান-রের গাছগাছালিও সেভাবেই স’ান পেয়েছে বাগানে কিংবা টবে ঘরে আঙ্গিনায়। মনসা পূজায় ব্যবহৃত বাগানে কিংবা টবে ঘরে আঙ্গিনায়। মনসা পূজায় ব্যবহৃত ফনিমনসা ভারতীয় উপমহাদেশে বহুকালের হলেও, প্রায় দুইশত বৎসর বা তার কিছুকাল আগে পর্তুগীজরা এই অভিনব উদ্ভিদ শ্রেণীটি ভারতীয় উপমহাদেশে নিয়ে এসেছিল। গ্রীকরা কধশঃড়ং বা ঈধপঃড়ং কে বলে কন্টকাবৃত গাছ। আমাদের দেশের গ্রামেগঞ্জে কুসংস্কারের ছায়ায় বেড়ে ওঠা “বাজবরণ” গাছ (বাড়িতে বাজ পড়া লুপ্ত করে) হরহামেশা দেখা গেলেও, আসলে ক্যাকটাস বলতে যা বোঝায় তা ছিল আমেরিকা, উত্তর আমেরিকা, ক্যালিফোর্নিয়া, এ্যারিজোনা, ম্যাক্সিকোয়। পরে ইউরোপ, অষ্ট্রেলিয়া হয়ে জলজংলার দেশে। বৃক্ষমেলার ষ্টলে কিংবা আপনার ঘরের কোণে। উদ্ভিদগতভাবে ‘ক্যাকটাসী’ নাম স্বাধীন গোত্রের বংশধরেরা তিনটি উপ-পরিবার চবৎংবংশরধবধব, ঙঢ়ঁহঃরপধব এবং ঈবৎবধহধব এর অন-র্ভুক্ত হলেও অনেক ক্ষেত্রে সাকুলেন্টের সাথে আমরা প্যাচ দিয়ে ফেলি। রাত বাড়ছে, সুখের সময়ের রেশন থেকে সময় কাটা যাচ্ছে, তাই কথার ঘনঘটা বাদ। অবজেকটিভের যুগে বড় জোর পুরো টপিকসটার ওপর কিছু রেফারেন্স দিচ্ছি যাতে আপনি একজন সফল ক্যাকটাস রক্ষক হতে পারেন। (আসল কথা জ্ঞান স্বল্প, তাই সংক্ষেপে মারলুম-হিঃ হিঃ) প্রশ্ন নং-১ ঃ ক্যাকটাস ও সাকুলেন্ট কি, বুঝিয়ে বল? উত্তর ঃ ঈধপঃধপবধব পরিবারের অন-র্গত গুপ্তবীজ (ধহমরড়ংঢ়বৎসড়হং), দ্বিবীজপত্রী (ফরপড়ঃু ষবফড়হড়ঁং/ পযড়ৎরঢ়বঃধষবধব) গাছকে ঈধঃঁং বলে। বহুবচনে ঈধপঃর বলে। এদের দেহে এরিওলস ও স্পাইন (কাঁটা আর কি) বিদ্যমান আর চবৎবংশরধ ব্যতীত বাকীগুলো সাধারণত পাতাহীন রূপসী। সুন্দর বাহারী ফুল ফুটতে দেখা যায়। ল্যাটিন শব্দ ঝঁপপঁং থেকে ঝঁপপবঁষবহঃ, যার অর্থ রস থেকে রসালো উদ্ভিদ। ক্যাকটাস ছাড়া বাকী রসালো উদ্ভিদেরকে এই নামে ডাকা হয়। অর্থাৎ, প্রায় সব ক্যাকটাসই সাকুলেন্ট (পেরিসকিয়া বাদে)। কিন’ সব সাকুলেন্ট ক্যাকটাস নয়, সাকুলেন্টদের আদি নিবাস আফ্রিকা এবং যৎ সামান্য আরব, ইরান, তুর্কী, ভারতবর্ষসহ পূর্বাঞ্চলীয় দেশসমূহে। এই কাঁটাস্বেবা কেকটাস ও সাকুলেন্টের সৌন্দর্যের কামনায় তৃষিত হয়েই আজ তারা আমাদের গৃহ প্রাঙ্গণে কিংবা বাগানে। প্রশ্ন নং-২ ঃ কেমন পরিবেশ দরকার জন্মাতে? (ঈষরসধঃব ৎবয়ঁরৎবসবহঃ) উত্তর ঃ (ক) অধিকাংশই উচ্চতাপমাত্রা এবং শুষ্ক আবহাওয়ায় ভালো জন্মে। (খ) পর্যাপ্ত সুর্যালোক থাকতে হবে, বিশেষত ফুল ধারনের জন্য সকালের সূর্যালোক। (গ) ছায়াতে জন্মালে লিকলিকে হয় এবং ফুল উৎপন্ন করে না। (ঘ) অতিরিক্ত পানি ক্ষতিকর। (ঙ) প্রচুর নির্মল বায়ু প্রবাহ। (চ) ১৫ ডিগ্রী থেকে ৩০ ডিগ্রী সেলসিয়াস এর মধ্যে অধিকাংশ ভালো জন্মে। এই সকল বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে ক্যাকটাস জন্মানো এমনকি চাষ আমাদের দেশে কঠিন নয় বরং সাকুলেন্ট গাছগুলো জন্মানো সহজ। কারণ অভিযোজন ঘটে বেশি। প্রশ্ন ঃ ৩ ঃ বংশ বিস-ার ঘটে কিভাবে? উত্তর ঃ সংগ্রাহক বা রক্ষক হলে ঘর সাজাতে টবে, ছাদে, ব্যালকনি কিংবা ঘরে টেবিলের পাশে, জানালার ধারে, ড্রইং রুমে ক্যাকটাসের জন্য বংশ বিস-ার পদ্ধতি সম্পর্কে গভীর জ্ঞানার্জন অপেক্ষা ৫০ থেকে ৫০০ টাকায় নার্সারী বা বৃক্ষমেলা থেকে চারা কেনাই ভালো। জানার জন্য বলছি- বীজ বিশেষ প্রক্রিয়ায় গজিয়ে, অফসেট বা পার্শ্বচারা এবং কাটিং থেকে ক্যাকটাস ও সাকুলেন্ট জন্মানো যায়। ঘাত সহনশীল করে বাহারী ক্যাকটাস জন্মাতে নার্সারীতে গ্রাফটিং এর সাহায্য নেয়া হয়। প্রশ্ন- ৪ ঃ সংক্ষেপে ক্যাকটাস ও সাকুলেন্ট জন্মানোর প্রক্রিয়া আলোচনা কর? উত্তর ঃ জন্মানোর প্রক্রিয়া হাউজিং অব ক্যাকটাস- (ক) কনটেইনার ফর ক্যাকটাস (খ) কস্পোষ্ট ফর ক্যাকটাস (গ) সময় (রোপণ) (ঘ) পাত্রে লাগানোর প্রচেষ্টা (ঙ) আন-ঃ পরিচর্যা হাউজিং অব ক্যাকটাস ঃ বলতে বুঝায় যে, জায়গা এর জন্য প্রয়োজনীয় আবহাওয়া শর্ত ও উপাত্ত সব সময় সরবরাহ করে। শহুরে বাগান প্রেমিক, এপার্টমেন্ট মালিকরা এখন হরহামেশাই বাহারী প্লাষ্টিক টিনের সেড বা গ্রীন হাউজ কখনও কখনও আমাদের মত ……. দের দেখিয়ে কিনা জানি না পহেলা বোশেখে পান-া খাবার মত টালির তৈরি ছাদে ছোট ঘরে ক্যাকটাস ও সাকুলেন্টসহ অকির্ড রাখে। প্রয়োজনে ঘর সাজাতে ঘরে আনে কিংবা অনেকদিন ঘরে থাকায় শীর্নকায় হলে একটু চেঞ্জে ঐখানে। একেই বলে ক্যাকটাস হাউজ। কনটেইনার ফর ক্যাকটাস ঃ বলতে বোঝায় মাগুর মাছ যেমন পুকুরে নদীতেও হয়, বাকী কৃত্রিমভাবে চৌবাচ্চায়ও হয় সেরকম মরুভূমির গাছ কৃত্রিম পাত্রে। পাত্রটা হবে মাটির তৈরি। উদ্ভিদটির আকারের সমানুপাতিক, বড়র জন্য বড়, ছোটর জন্য ছোট। ছোট গাছে বড় টব দিলে গাছ মরে যাবে। গাছ বাড়ার সাথে টবের আকারও বড় হবে এবং সব সময় পরিষ্কার, শুষ্ক ও জীবাণুমুক্ত করে নিতে হবে। কম্পোষ্ট পর ক্যাকটাস ঃ পাতা পচা-১ ভাগ পর্যাপ্ত পচানো গোবর-১ ভাগ মোটা বালি (লালচে/ পাহাড়ী)- ১ভাগ দোঁয়াশ মাটি-১ ভাগ হাঁড়ের গুড়ো- সামান্য মিশ্রণটি ১০% বিএইচসি দ্বারা শোধিত (বেনজিন হেক্সা ক্লোরাইড) জবঢ়বঃধহঃ রোপণ সময় ঃ মার্চ থেকে এপ্রিল লাগানোর ভালো সময়। টবে লাগানোর তরতীব ঃ ১. পরিষ্কার, বীজাণুমুক্ত, বাহারী টব (শিশু একাডেমীর সামনে) কিংবা আমার মত লোকের জন্য বগুড়ার দই এর হাঁড়ি। কখনও কখনও সাভার পুরান বাজার কুমারদের তৈরি (বিশেষভাবে তৈরি) টব। ২. নিচের ফর্মুলা মত মাটি সাজালে ভালো হয়- খোয়া বা পাথর তিনভাগের এক ভাগ- একদম নিচের স-র ক্যাকটাসের জন্য কম্পোষ্ট ২-৩ সে.মি. এর ওপরের স-র ক্যাকটাসের চারা-আলতো করে কম্পোষ্টের গভীরে পোতা। চারা লাগানোর পূর্বে শেকড় কেটে, ছেটে, স্পিরিট দিয়ে জীবাণু নাশ করে এবং শুকিযে নিলে পচা ও মরার সম্ভাবনা কম। আন-ঃ পরিচর্যা ঃ ক্স জলব্যবস’া-পর্যাপ্ত পানি সেচ এগুলোর জন্য অপরিহার্য। বাকী অতিরিক্ত সেচ ক্ষতিকর। শীতকালে দৈহিক বৃদ্ধি প্রায় বন্ধ থাকে। তাই সেচ ব্যবস’া তথা জল সরবরাহ কঠিনভাবে নিয়ন্ত্রণব্য। ক্স স্ট্যাকিং-গুল্মের মত জন্মানো গাছে খুঁটি বা স্ট্যাকিং দিয়ে নেতিয়ে পড়া রোধ করতে হবে। ক্স কীট ও বীজানু- মিলিবাগ নামক কীটের আক্রমণ হতে পারে। ক্স নিম তেলের অথবা তামাক পাতার দ্রবণ ম্যালথিয়ন কিংবা এরোসল দিয়ে খুসি। ছক-১ ঃ কিছু বহুল প্রচলিত ক্যাকটাস সাধারণ নাম বৈজ্ঞানিক নাম সংক্ষিপ্ত তথ্য/ সংবাদ ১. ফনিমনসা (চৎরপশষু চবধৎ) ঙঢ়ঁহঃরধ ফরষষবহর কাণ্ড পুরু, গিঁটযুক্ত, চ্যাপ্টা ও গোলাকৃতি, কোন কোনটি বৃক্ষের মত বৃহৎ, শাখা ও বীজদ্বারা বংশ বিস-ার হয়। বড় হলুদ বা লারচে বর্ণের ফুল হয়। মরুর গোলাপ। ২. ইঁদুর লেজা (জধঃ ঃধরষ পধপঁঃং) অঢ়ড়ৎড়পধপঃঁং/ ভষধমব ওওরভড়ৎসরং কাণ্ড সরু, লম্বা, হেলানো ও সূক্ষ্ম কাঁটায় ঢাকা, ফুল লাল, প্রধানত বসন- কালে ফোটে, শাখা কলম ও বীজে বংশ বিস-ার। ৩. গোল্ডেন ব্যারেল ঊপযরহড়পধপঃঁং মৎঁংড়হরঃ সোনালী আকারের কাঁটা ব্যারেলের মত কাণ্ডের ওপর সবচেয়ে বৃহৎ আকৃতির এই গোত্রের, ছোট প্রজাতি টবে জনপ্রিয়, শাখা কলম হয় না, বীজে বংশবিস-ার ঘটে। ৪. নিপল ক্যাকটাস গধসসরষষধৎরধ পশুর বাটের মত দেখতে বামনাকার, কাণ্ডের শীর্ষে গুচ্ছগুচ্ছ চুলের মত পাতা ও পাতার ফাঁক হতে ফুল বের হয়। সুদৃশ্য ফুল ভেতরের দিকে উজ্জ্বল হলুদ ও বাইরে লালচে ভাব। ৫. নিশীপদ্ম (ঘরমযঃ ছঁববহ) চযুঃষড়পধপঃঁং ঙীুঢ়বঃধষঁস বহুল আলোচিত ও প্রচলিত, গাছের যে কোন অংশ ভেঙ্গে লাগালে জন্মে, সন্ধ্যার পরে পরে সাদাটে ফুল ফোটে। ছক-২ ঃ কিছু বহুল প্রচলিত সাকুলেন্ট সাধারণ নাম বৈজ্ঞানিক নাম সংক্ষিপ্ত তথ্য/ সংবাদ ১. ঘৃতকুমারী অষড়ব ঝঢ় পুরু ও রসালো, কোন কোন প্রজাতি ডোরা কাটা ও চটকদার ঘৃতকুমারী ওষুধ হিসাবে বহুল প্রচলিত। ২. পাথরকুচি অমধাধ বংশ বিস-ারে বিশেষত্ব পাতায় চারা গজায়। বহুল প্রচলিত, ওষুধ হিসেবেও ব্যবহৃত হয়। ৩. সেঞ্চুরী প্লান্ট/ শতায়ু গাছ ঝঃধঢ়বষরধ ঠধৎরবমধঃধ পায় ৩০০ প্রজাতি রয়েছে। রোজেট আকারে সাজানো তলোয়ার আকৃতির মাংসল কিনারা, কন্টকময় পাতা, ১০ বছর পর ফুল দেয়, যদিও মনে করা হয় ১০০ বছর পর ফুল দেয়। ৪. ষ্টার ফ্লাওয়ার ঊঁঢ়যড়ৎনরধ ফুলগুলি তারার ন্যায় দেখতে। ৫. করংং গব ছঁরপশ ঈরংংঁং হাল্কা লাল রঙের পাপড়িগুলো এমনভাবে সাজানো থাকে যেন ঠোঁটগুলো চুমু খাওয়ার জন্য প্রস’ত হয়ে আছে। ৬. হাড়জোড়া/ হাড় মটকা অদ্ভুত গঠন আকৃতি, টবে জন্মানোর সহজ কাটিং এর মাধ্যমে বংশবৃদ্ধি। প্রশ্ন- ৫ ঃ কিন’ প্রচলিত ক্যাকটাস ও সাকুলেন্ট সম্পর্কে তথ্য দাও ? উত্তর ঃ সংযোজত উপরের ছক দ্রষ্টব্য শেষ কথা ঃ ডবল পাওয়ারের এক ফ্লাক্স, চা, বিস্কুট, ড্যানিস এক তা (ডবল ফুল স্কেপ) কাগজ শেষ। শেষ সময়ও, কিন’ শেষ আরজি- ক্যাকটাসের অর্থনৈতিক গুরুত্বসহ শৈল্পিক লীলা সজেই অনুমেয়। বাকী জাপান, আমেরিকা, জার্মানীর মানুষ যেমন পোল্ট্রি ফার্মের মত ক্যাকটাস-স্যাকুলেন্টের ব্যবসায়ী খামার/ নার্সারী গড়ে বিশ্ববাজারে চুটিয়ে ব্যবসা করছে, সেখানে জীবের প্রতি সদয় হয়ে আমরা একটি উদ্ভিদকেই তার চাহিদামত খোরাক আর যতনে প্রাপ্ত বয়স্ক করে ফুল ফোটাতে পারছি কি?