আবারও একটি প্রকল্প! হ্যাঁ, স্কাউট ভাই-বোন বন্ধুরা পূর্বের ন্যায় এবারও আমাদের আশেপাশে প্রাপ্ত সুযোগ সুবিধার সর্বোত্তম ব্যবহারের মাধ্যমে একটি স্বনির্ভর উপার্জনমুখী আকর্ষণীয় প্রকল্পকে আপনাদের খেদমতে উপস’াপনের জন্য আমার এই প্রয়াস। কবুতর পালন আমাদের দেশে নতুন কিছু নয়। তবে উপার্জনমুখী প্রকল্প হিসেবে উপস’াপিত কবুতর পালন আমাদের সনাতন কবুতর পালন থেকে কিছুটা ভিন্ন। তবে সনাতনের থেকে অধিক লাভজনক ও অসুবিধাবিহীন।
আর বৃথা বাক্য ব্যয় নয়, আসুন তবে সবার জন্য নতুন প্রকল্প ‘আধুনিক কবুতর পালন।’ মনে রাখবেন আমি এখানে যাই বলব, সবই কিন’ বাস-বে প্রয়োগ করে বিচার বিশ্লেষণের পরই উপস’াপন করছি।
ক. কেন এই প্রকল্প ঃ
বাংলাদেশ একটি দরিদ্র ও উন্নয়নশীল দেশ। স্বভাবতই এদেশের সবার কাছে অর্থ একটি প্রধান আলোচ্য বিষয়। এ কারণেই আর্থিক স্বচ্ছলতা আনয়ন আমাদের স্কাউট কার্যক্রমের বাইরে নয়। এ সম্পর্কে বিস-ারিত এবং বাংলাদেশ স্কাউটস এর উদ্দেশ্য ও রূপরেখা সম্পর্কে “পারিবারিক জীবন শিক্ষা” পুস-কে আলোচিত হয়েছে। আমার উপস’াপিত প্রকল্পটিও এই উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য থেকে কিছুমাত্র বিচ্যুত নয়। বিক্ষিপ্ত আলোচনা ছেড়ে আসুন, একটি আধুনিক পদ্ধতি মাফিক, বিজ্ঞানভিত্তিক প্রকল্প হিসেবে একে উপস’াপন করি। যার ফলে কাজটি সহজ হবে এবং আপনাদের কাছেও গ্রহণযোগ্য হবে।
প্রকল্পের শিরোনাম ঃ
“আধুনিক কবুতর পালন প্রকল্প ঃ
ব্যক্তিগত স্বনির্ভরতার উৎস”
প্রকল্পের অবস’ান ঃ
অবস’ান সম্পর্কে আলোচনা করতে গেলে স্বভাবতই কবুতরের বাসস’ানের কথা এসে পড়ে। তবে চিন-ার কিছু নেই। নিচে আলোচিত তিনটি বৈশিষ্ট্যের দিকে লক্ষ্য রেখে নিজের বাড়ির আশেপাশে তাকান, দেখবেন শহরে কিংবা মফস্বলে, রাজধানীতে কিংবা গ্রামে যেখানেই থাকুন না কেন, বাড়ির পেছনের একটি খোলা বারান্দায় বেলুকনির মত সুবিধাজনক জায়গা একটু জুটে গেছেই।
১. থাকার ঘরটা উঁচু জায়গায় করতে হবে, যাতে ক্ষতিকর প্রাণী ও পাখীদের নাগালের বাইরে থাকে।
২. প্রচুর আলো বাতাস আছে এমন স্বাস’্যকর জায়গা হতে হবে।
৩. কবুতরের মলত্যাগে যেন পারিবারিক সমস্যার সৃষ্টি না হয়।
প্রকল্পের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য ঃ
পূর্বেই বলা হয়েছে, আলোচ্য প্রকল্পটি বাংলাদেশ স্কাউটদের সমাজ উন্নয়ন ও ব্যক্তিগত আর্থিক স্বচ্ছলতা লাভের উদ্দেশ্যে প্রণীত। প্রকল্পটি বাস-বায়নে যে সব গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য হাসিল হবে, তা হলো-
১. ব্যক্তিগত ও পারিবারিক জীবনে উন্নতি ও স্বচ্ছলতা লাভ।
২. স্বনির্ভর প্রকল্প হিসেবে সমাজে এর প্রসারের মাধ্যমে আর্থিক ও নৈতিক উন্নয়ন সাধন।
৩. অবসর সময়ের অর্থবহ ব্যবহার ও আত্মনির্ভরশীলতা অর্জন।
৪. সমাজ ও ব্যক্তিগত এবং জাতীয় জীবনে স্কাউট আন্দোলনের অবদান ও আবেদনকে আরও অর্থবহ করে তোলা।
৫. বসতবাড়িতে অল্প শ্রম, স্বল্প ব্যয়ে প্রকল্পটির মাধ্যমে পরিবারে আমিষের চাহিদা পূরণ পূর্বক বাড়তি আয়ের সুযোগ সৃষ্টি।
প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ, বিশ্লেষণ ও সমস্যা চিহ্নিতকরণ ঃ
কিছু রাসভারী কথাবাতা না হয় হলো, কিন’ আসল কাজ করতে গেলে অবশ্যই যা আমাদের জানতে হবে তা হচ্ছে, কবুতর পালনের উল্লিখিত সেই আধুনিক পদ্ধতি সম্পর্কে।
তবে তার পূর্বে আর একটা প্রয়োজনীয় কাজ সেরে নেয়া যাক। যদিও এটি একটি ব্যক্তিগত প্রকল্প, এর সুষ্ঠু পরিচালনা ও বাস-বায়নের জন্য বাড়ির পরিবারের সদস্য ও স্কাউট লিডারকে নিয়ে একটি কমিটি গঠন করতে হবে।
প্রকল্প উপদেষ্টা ঃ নিজ দলের স্কাউট লিডার।
প্রকল্প পরিচালক ঃ প্রকল্পটি গ্রহণকারী স্কাউট।
সহায়তাকারী ঃ
১. বাবা-মা।
২. ভাইবোন ও অন্যান্য।
পরামর্শদাতা ঃ
১. থানা পশুসম্পদ কর্মকর্তা।
২. পশু চিকিৎসক।
সংগৃহীত তথ্য ঃ
একজোড়া কবুতর বারো মাস তেরোজোড়া বাচ্চা দেয়। আর এ কারণেই কবুতর পালন একটি লাভজনক প্রকল্প। রোগীর পথ্য ও বলকারক বলে এর বাজারও খুব ভালো।
কবুতরের বাসা তৈরি ঃ
বাজারে আপেল, আঙ্গুর প্রভৃতির পরিত্যক্ত প্যাকিং বাক্স কিংবা সস-া কাঠের সাহায্যে কবুতরের বাসা বানানো অতি সহজ। ১০ জোড়া কবুতরের জন্য এ রকম একটি ঘর বানাতে ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা খরচ হতে পারে। তবে ঘর তৈরির সময় নিচের শর্তগুলো মেনে চললে সবোচ্চ সুবিধা পাওয়া যাবে ঃ
১. প্রতি জোড়া কবুতরের জন্য লম্বা ১২র্ র্ বা ৩০ সেঃ মিঃ চওড়ার ১র্২র্ বা ৩০ সেঃমিঃ এবং উচ্চতায় ১র্২র্ বা ৩০ সেঃ মিঃ মাপের খোপ বানাতে হবে।
২. কবুতরের ঘর পাশাপাশি বা কয়েক তলা বিশিষ্ট করা যেতে পারে। প্রতি তলায় র্৫র্ বা ১২.৭০ সেঃ বারান্দা এবং প্রতিটি খোপের জন্য র্৪র্ ক্ম র্৪র্ বা ১০.১৬ ক্ম ১০.১৬ সেঃমিঃ মাপের দরজা থাকবে।
৩. প্রতি মাসে ২/১ বার করে কবুতরের বিষ্ঠা পরিস্কার করতে হবে এবং এদের ঘর পরিস্কার ও শুকনো থাকা বাঞ্ছনীয়।
জীবনচক্র ঃ
সাধারণত পুরুষ ও স্ত্রী কবুতর জোড়া বেধে আজীবন এক সাথে বাস করে। এদের জীবনকাল ১২ থেকে ১৫ বছর। স্ত্রী-পুরুষ উভয়ে মিলে খড়কুটো সংগ্রহ করে ছোট জায়গায় বাসা তৈরি করে (ডিম পাড়ার স’ান)। ৫ থেকে ৬ মাস বয়সে স্ত্রী কবুতর ডিম পাড়া শুরু করে। এরা ২৮ দিন অন-র ৪৮ ঘণ্টার ব্যবধানে ২ (দুই)টি ডিম দেয় এবং পাঁচ বছর বয়স পর্যন- ডিমে বাচ্চা উৎপাদন ক্ষমতা সক্রিয় থাকে। ডিমে বাচ্চা উৎপাদন ক্ষমতা সক্রিয় থাকে। স্ত্রী-পুরুষ উভয়েই পালা করে ডিমে তা দেয়। ডিম থেকে বাচ্চা ফুটতে ১৭ থেকে ১৬ দিনের মধ্যে স্ত্রী ও পুরুষ উভয় কবুতরের খাদ্য থলিতে দুধ জাতীয় (ঈৎড়ঢ় গরষশ) বস’ তৈরি হয়, যা খেয়ে বাচ্চারা ৪ দিন পর্যন- বেঁচে থাকে। স্ত্রী ও পুরুষ কবুতর উভয়েই ১০ দিন পর্যন- এদের বাচ্চাকে ঠোঁট দিয়ে খাওয়াবার পর বাচ্চারা দানাদার খাদ্য খেতে আরম্ভ করে।
কবুতরের জাত ঃ
পৃথিবীতে দু’শ থেকে তিন’শ প্রজাতির কবুতর আছে। তবে যেহেতু আমাদের প্রকল্প মাংস উৎপাদী-বিক্রয় যোগ্য কবুতর উৎপাদনের লক্ষ্যে, সেহেতু আমরা গোলা, লক্ষা, ডাউকা কিংবা হামকাচ্চা জাতের সহজলভ্য যে কোন একটিকে বেছে নেব। অবস’া বিশেষে লোটন কিংবা গিরিবাজ জাতকেও বেছে নেয়া যেতে পারে, যদিও এরা চিত্তবিনোদনকারী কিছুটা মূল্যবান জাতের কবুতর।
পালনের সুবিধা ঃ
১. কবুতর পালন আনন্দদায়ক।
২. কবুতরের মাংস সুস্বাদু ও পুষ্টিকর।
৩. প্রতিমাসে গড়ে ২টি বাচ্চা পাওয়া যায় এবং ৩/৪ সপ্তাহে বিক্রয়যোগ্য খাওয়ার উপযোগীতে পরিণত হয়।
৪. এদের রোগ বালাই কম।
৫. খাবার খরচ কম এবং মুরগী পালনের চেয়ে সহজসাধ্য অর্থাৎ অল্প পুঁজি বেশী রুজি।
৬. থাকার ঘর তৈরি সহজ ও ব্যয়বহুল নয়।
৭. প্রকল্প গ্রহণযোগ্য প্রাপ্ত বয়স্ক দশজোড়া কবুতরের ক্রয় মূল্য প্রায় ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা যে কোন প্রয়োজনে তা ক্রয় মূল্যে বিক্রয় করা যায়।
৮. ১০ জোড়া কবুতর থেকে গড়ে প্রতি মাসে ৮ জোড়া কবুতর পাওয়া যায়, যার বিক্রয় মূল্য কমপক্ষে ৩০০ টাকা।

খাদ্য ও প্রস’ত প্রণালী ঃ
প্রাপ্ত বয়স্ক প্রতিটি কবুতর গড়ে ৩৫ থেকে ৬০ গ্রাম দানাদার খাদ্য খায়। তবে স্বাস’্যবান কবুতর উৎপাদনের জন্য নিম্নের তালিকা অনুযায়ী ‘গ্রিট মিকচার’ তৈরি করে খাওয়াতে হবে ঃ
গ্রিট মিকচার
উপাদান পরিমাণ
১. গমভাঙ্গা ২. ভুট্টা ভাঙ্গা ৩. গমের ভূষি ৪. চাউলের কুড়া ৫. ধান ৬. পাঁচ মিশালী ডাল ৭. শুটকী/ পেরু ফিশ ৮. সয়াবিন/ বাদাম খৈল ৯. ঝিনুক চুর্ণ ১০. ভিটামিন ১১. ক. কাঠ কয়লা গুড়া খ. বালি গ. হাড়ের গুড়া ঘ. ডিমের খোসা গুড়া ঙ. শাক-সবজি ৩৫% ৫% ১০% ১০% ৫% ৫% ৩% ৫% ২% ১%
১০০%
এছাড়া বিশুদ্ধ খাবার পানির সু-বন্দোবস- থাকতে হবে।
রোগ বালাই ঃ
কবুতরের কয়েকটি উল্লেখযোগ্য রোগ ও তার প্রতিকার-
রোগ ব্যাধি ঃ
রোগের নাম রোগের লক্ষণ প্রতিকারক টিকা/ ঔষধের নাম প্রয়োগের বয়স/ সময়
বসন- ত্বকের পালক বিহীন জায়গা ফোস্কা হয়, গলার ভেতরে ছোট ছোট ক্ষত হয়। পিজিয়ন পক্স ভ্যাকসিন ৪ সপ্তাহ বয়সে
কলেরা শরীরের তাপমাত্রা বৃদ্ধি, অরুচি, ওজন হ্রাস, শ্বাস কষ্ট, সবুজ বা হলুদ ডাইরিয়া ইত্যাদি সালফার পাউডার ট্যারামাইসিন ক্যাপসুল কসুমিক্স প্লাস রোগ দেখা দিলে রোগ দেখা দিলে
রক্ত আমাশয় বা ককসিডিওসিস কৃমি রোগ দুর্বলতা, শীর্ণতা, ফ্যাকাশে ভাব, ক্ষুধামমন্দা, রক্ত মিশ্রিত মল ত্যাগ ইত্যাদি। ক্ষুধা ও পিপাসা বৃদ্ধি, দুর্বলতা, রক্ত শূন্যতা, ডাইরিয়া, ওজন হ্রাস ইত্যাদি ই,এস,বি-৩ এমবাজিন ১. এভিপার, কুপেইন ইউনিভলন ইত্যাদি ২. মেবেন টেবলেট রোগ দেখা দিলে বা রোগের সম্ভাবনা থাকলে রোগ দেখা দিলে বা প্রতি ৩ মাস পর পর।
কবুতর অসুস’ হলে নিকটস’ পশু সম্পদ অফিসে যোগাযোগ করে পশু চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
উপসংহার ঃ বন্ধুগণ, আমি আমার স্বল্প জ্ঞান ও সাধ্যের মধ্যে আন-রিকভাবে চেষ্টা করেছি, একটি বাস-ব সম্মত ও উপার্জনমুখী প্রকল্প আপনাদের সামনে হাজির করতে। কেউ যদি এই নিরস রচনা পড়ে সদিচ্ছাবশত প্রকল্পটি গ্রহণ করেন, তবেই আমার চেষ্টা সফল হবে। সবার সাফল্যের আশা নিয়ে শেষ করছি।

বিজ্ঞান চর্চা ও স্কাউটিং-এর সমন্বয় সমপ্রসারণের এক নব দিগন-

“যুগের হাওয়া বদলে যদি দেয়
আজকের এই শুভ প্রভাত
লাভ কি বল চিন-া করে
অতীতের সেই অমানিশার রাত?”
কবির কথাটাকে সত্য বলে মেনে নিয়েই আজকের প্রবন্ধটি আরম্ভ করছি। স্কাউটিং চর্চার ১৯০৮ সালের * এর ধারা ও বর্তমানের মধ্যে অনেক অনেক ফারাক, কারণ ঐ যুগের হাওয়া। বিজ্ঞ স্কাউট নেতৃবৃন্দ যুগ পরিবর্তনের সাথে সাথে স্কাউটিং কার্যক্রম ও কর্মসূচীকেও পরিবর্তন, সংকোচন ও পরিবর্ধন করে যুগোপযোগী করেছেন। আবার অনেক দেশের স্কাউট সংগঠন তাদের আর্থ-সামাজিক অবস’ার উপর ভিত্তি করেও স্কাউটিং প্রোগ্রাম রচনা করেছেন।- অর্থাৎ, আমার এই বাক্যব্যয়ের একটিই উদ্দেশ্য পাঠকদের সুনিশ্চিতভাবে বোধগম্য করা যে, এটি একটি পরিবর্তনশীল প্রোগ্রাম।
অনেকদিন ধরে নিজস্ব ব্যক্তিগত চিন-া-ভাবনার ফসল আমার এই রচনা, একথা পাঠক বলতে পারেন এবং আমিও মেনে নিতে রাজি আছি। তবে বিশেষ অনুরোধ, সময় নষ্ট করে নতুন এই চিন-াটি বোধগম্য করার দুরূহ চেষ্টা করেই দেখুন না, নতুন কোন কিছুর সন্ধান প্রণয়ন ও বাস-বায়ণ পদ্ধতি সম্পর্কে, মোটামুটি অজ্ঞ এই কলমবাজ দিতে পারে কিনা?
ভাষার অনেক জিলাপীর প্যাচ বাদ দিয়ে এবার প্রসঙ্গে আসি। আমার রচনাটির প্রথম অংশটি নিয়ে আমি ক্ষুদ্র জ্ঞানে আলোচনার চেষ্টা করব এবং পরবর্তীতে স্কাউটিং কার্যক্রমের সাথে এর সমন্বয় ও সমপ্রসারণ প্রসঙ্গে কিছু বলব।
বিজ্ঞানচর্চা নতুন কিছু নয়, অন-তঃ বিংশ শতাব্দীর এই বিজ্ঞানের যুগ্ম বিজ্ঞান যেমন তার সুন্দর আবিষ্কার দ্বারা মানবিকতা ও ব্যবসার এক সুন্দর সমন্বয় সাধন করেছে, তেমনি বখে যাওয়ার উত্তম সময় কৈশোর ও যৌবনের রক্তের উন্মাদনায় পচে যাবার সময় বিজ্ঞানচর্চার পরোক্ষ সম্পর্ক বাদ দিয়ে সরাসরি সম্পর্ক স’াপন কি অসম্ভব?
সম্ভব কি অসম্ভব তার বিশ্লেষণ পরে হবে। বর্তমানে নজর দেওয়া যাক বাংলাদেশে বিজ্ঞান চর্চার সুযোগ ও পদ্ধতিসমূহের স্বরূপ এবং বাংলাদেশ স্কাউটস, এর প্রোগ্রামে বিজ্ঞান মনস্কতার প্রতিফলনের অবস’ার দিকে।
কৈশোর ও তরুণ বয়সে সুষ্ঠু বিজ্ঞান মনস্কতা তৈরি ও চর্চার একটি সুষ্ঠু ও সুগঠিত প্রক্রিয়া প্রণয়ন করে সফল বাস-বায়ন করতে সক্ষম হয়েছেন “বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি যাদুঘর”, আগারগাঁও কর্তৃপক্ষ। তাঁদের বিজ্ঞান ক্লাব গঠন কার্যক্রম, বাংলাদেশে বিজ্ঞানচর্চা সমপ্রসারণে নব দিগনে-র উন্মেষ ঘটিয়েছে। স্কুল, কলেজ কিংবা পাড়াভিত্তিক বিজ্ঞানচর্চার মাধ্যমে বিজ্ঞান ক্লাবগুলো সুস’ কিশোর ও তরুণ সমাজকে সংগঠিত করতে সক্ষম হয়েছে। থানা ভিত্তিক, জেলা ভিত্তিক কিংবা কেন্দ্রীয় বিজ্ঞান মেলা ও প্রদর্শনী তার বাস-ব প্রমাণ। সেসব কাজগুলোর রয়েছে একটি সুষ্ঠু পরিচালনা কমিটি, উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য এবং ফলাফলে উৎকর্ষ। আর এই জিনিসটিকে কাজে লাগিয়েই আমার নতুন চিন-া-ভাবনা।
স্কাউটিং কার্যক্রমে প্রকৃতি পর্যবেক্ষণ, বনকলা ইত্যাদিকে আমি পরোক্ষ বিজ্ঞানচর্চা হিসেবে একারণেই ধরে নেই যে, তার বিস-ার আমাদের স্কাউটিং কার্যক্রমে অত্যন- নাতিদীর্ঘ এবং আমাদের দেশের স্কাউটদের প্রকৃতি পর্যবেক্ষনের দৌড় গাছটির উচ্চতা কেমন? পাতা কেমন? কি ধরনের গাছ? খুব বেশী হলে তার নাম কি?- তার মধ্যেই সীমিত। বনকলার কথা তো বলাই বাহুল্য। আমার মনে হয় শহরে অর্থাৎ, যেখানে স্কাউটিং চর্চা অত্যন- গতিশীল তার থেকে গ্রাম পর্যায়ের সাধারণ অনুসন্ধিৎসু মনের ছেলে-মেয়েরা আমাদের থেকে বেশি জানে। অর্থাৎ, এখানে প্রোগ্রামে থাকা সত্ত্বেও সুষ্ঠু বাস-বায়নের অভাবে তা পূর্ণ রূপ লাভ করতে কিছুটা ব্যর্থ হয়েছে। কারণ যে সকল দেশের স্কাউট কার্যক্রমে প্রকৃতি পর্যবেক্ষনের বিষয়টি সম্পৃক্ত হয়েছে, তা আরও বাস-বসম্মত, সকলের গ্রহণযোগ্য ও বিজ্ঞান মনস্কভাবে সম্পৃক্ত হয়েছে। যে কারণে সে সব দেশের স্কাউটরা সুন্দর মার্চ পাস্ট কিংবা ড্রামে রণসঙ্গীত বাজাতে না পারলেও, তার দেশের বনাঞ্চল, তার অতীত ও বর্তমান অবস’া, বনাঞ্চলের বৃক্ষরাজি, পরিবেশ সংরক্ষণে কৃত্রিম বনাঞ্চল সৃষ্টির প্রক্রিয়া সম্পর্কে অনেক বেশি ওয়াকিবহাল। আর সে কারণেই আমাদে মত ‘ঘৃতকুমারী’ নামটা শুনে মুখ ভেংচিয়ে বলে ওঠে না ছি! ছি! এ আবার কি ধরনের নাম? অথচ বিজ্ঞানচর্চা করলে তার এই অবস’া হবার কারণ থাকতেই পারে না।
বাংলাদেশে কিশোর ও তরুণ বয়সে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা বাদে বিজ্ঞান চর্চার মাধ্যম বিজ্ঞান ক্লাবগুলোতে অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ হিসেবে নানা বিজ্ঞান বিষয়ক বই পত্র ও সংগ্রহে গড়ে ওঠে একটি লাইব্রেরী। প্রতিটি গ্রামে, শহরে, পাড়ায়, স্কুলে,ক্লাব কিংবা সংঘ থাকে। থাকে তাদের নিজস্ব কার্যালয়, লাইব্রেরী ইত্যাদি।
আমার প্রস-াবনা হলো যদি এই সব ক্লাবগুলোতে স্কাউটিং কার্যক্রমকে একটি অঙ্গ সংগঠন বা শাখা সংগঠন হিসেবে গড়ে তোলা যায়, তবে স্কাউটিং সমপ্রসারণের ২০০০ সালের লক্ষ্য আরও দ্রুত গতিসম্পন্ন ও বেগবান হয়ে তার লক্ষ্য ভেদ করবে।
স্কুল ও কলেজ-তথা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান দ্বারা মূলত আমাদের দেশের স্কাউটিং কার্যক্রম পরিচালিত। তাই খাতা-কলমে স্কাউটের সংখ্যা আমাদের যাই হোক না কেন- স্কাউটিং তার অভীষ্ট লক্ষ্য অর্জন করছে কিনা, তা বিবেচ্য বিষয়। কারণ গ্রামের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর স্কাউটিং কার্যক্রমের অবস’া বেহাল, কাণ্ডারীবিহীন। অথচ প্রতি গ্রামে বা পাড়ায় গড়ে ওঠা ক্লাব ও লাইব্রেরীগুলো, কিছু উৎসাহী ব্যক্তি, যারা বাড়ির খেয়ে বনের মোষ তাড়িয়ে সমাজকে কিছু দিতে চেষ্টা করেন, তাঁদের পরিশ্রমেই গড়ে ওঠে। আর তাই তারা বিজ্ঞানচর্চা করে অনেক ক্ষুদে বিজ্ঞানীর গবেষণা প্রজেক্টই বাস-ব রূপ দিতে সমর্থ হয়েছে।
স্কাউটদের যদি বিজ্ঞান ক্লাবের সদস্যদের মত ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র উদ্ভাবনী কাজে লাগানো যায়, তবে কেউই আর ব্যঙ্গ করে বলতে পারবে না তোদের স্কাউটিং এর অবস’াতো এই যে, দলে থাকে ৩২টা স্কাউট, প্রতি স্কুলে একটা থেকে কয়েকটা ইউনিট অথচ সর্বোচ্চ সাফল্য কিংবা প্রেসিডেন্ট’স স্কাউট বের হয় হাতে গোণা।
একথা ঠিক যে, সব কিছুতেই ‘ড্রপ আউট’ থাকে। তবে আমি মনে করি স্কাউট কার্যক্রম যেমন যুগোপযোগী হচ্ছে সেখানে মাইক্রোসফট ওয়্যারের যুগের অতি অনুসন্ধিৎসু মানসিকতার সমাজে আমার এই চিন-া একবারেই অমূলক নয়।
তাছাড়া, আর একটা প্রসঙ্গ এখানে উঠতে পারে। সেটি হলো-শুধুমাত্র স্কুল কলেজে যা সমাজের জন্য স্কাউটিংকে বেঁধে না রেখে যদি এমন একটি নতুন পরিকল্পনা প্রণয়ন করা যায়, যাতে পাড়ায় পাড়ায় গড়ে ওঠো ক্যারাম তাস বা জুয়ার আড্ডা কিংবা অন্য যে কোন অনিষ্ট কিছুতে সম্পৃক্ত না করে কিশোর ও যুব সমাজকে ফিরিয়ে আনা যায়।
মুক্তদল চেতনা একটি মাধ্যম, কিন’ কিছু দুর্বলও বটে। কারণ আর্থিক সমস্যার জন্য বেশিরভাগ দলই শেষ পর্যন- টিকে থাকে না।
যাই হোক কলম বাজটা এখন থামাতেই হয়। বিজ্ঞানচর্চা তথা বিজ্ঞান ক্লাবের সঙ্গে সমন্বয় ঘটিয়ে একটা সমপ্রসারণ রীতিই আমার আলোচ্য ছিল এবং পরবর্তীতে তা বিকশিত হয়ে এদিক ওদিক অনেক দিকেই ছড়িয়ে গেছে। সুষ্ঠু নির্দেশনার বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে কিনা বলা আমার ক্ষুদ্র জ্ঞানে কঠিন। তবে আরও পরিপক্ক ও বিজ্ঞ সমাজ, যারা আমাদের এই স্কাউটিং কার্যক্রমের সাথে জড়িত, তারা এর পূর্ণ বিকাশ ঘটাতে পারবেন বলে আমি আশা করি। তখন শিক্ষিত, আগ্রহী তথা পুরো সমাজই সুনাগরিক ও সুস’ চেতনাসম্পন্ন হয়ে গড়ে উঠবে। অর্থাৎ, দলগত স্কাউটিং, তার ডালপালা ছড়িয়ে বটবৃক্ষের ন্যায় সামাজিক স্কাউটিং-এর জন্ম দেবে।

Leave a Reply

You can use these tags: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <strike> <strong>