কত দিন পর কলম ধরলাম। কিছু লিখব এমন ভাবতে ভাবতে হারিয়ে যাচ্ছিলাম। ভাবনাগুলোকে এক সূতোয় গাঁথার জন্য নিয়ত করলাম যে, জানা কিছু নিয়েই লেখার। ইশতিয়াকদের বাসায় এনসাইক্লোপ্রেডিয়া উল্টাতে গিয়ে নজরে পড়েছিল কিছু শব্দ-ল্যান্ড স্কেপিং, গার্ডেনিং টেরিরিয়াম বা বোতল গার্ডেন ইত্যাদি। তাই নিয়ে দু’দিন ধরে ফুফুর ধানসিঁড়ির এ্যাপার্টমেন্ট, পেছনে কোন শহুরে বাগান প্রেমিকের বাগান বাড়ি-বিলাসিতা-আধুনিক উদ্যান বিজ্ঞানের উৎকর্ষ আর টেলিভিশনের ‘মিনিপ্যাক।’ সব যখন জগাখিচুড়গী তখনই চোখে পড়লো ছোট চাচার নিউইয়র্ক থেকে আসা কন্টেইনার থেকে বের হওয়া বোতলের মধ্যে একটা জাহাজ ব্যস সব জট খুলে গেছে চলছে কলম বেশ হজয়তো সরস কিংবা নিরস।
অনেকেই দেখে কিংবা জেনে থাকবেন- একটা জিন কিংবা হুইস্কির বোতলের পানি এবং আধুনিক সভ্যতার মাদকতার অভিশাপ যখন শেষ হয়ে যায় তখনই কিছু মেহনতী কর্মী, চিন-া, চেতনা, বুদ্ধি, পরিশ্রমের সংমিশ্রণে মেহনতে দামী করে তোলে আস-া কুঁড়ের ঘৃণ্য সেই বোতলটিকে ভিতরে একটা ছোট্ট কলম্বাসের আমেরিকা আবিস্কারের নমুনা জাহাজে। বাস একটা শো-পিস,মূল্যবান আসবাব আর শো- কেসের সবচেয়ে যত্নের মানিক রতন (অনেকের কাছে)।
সে রকমই একটা চিন-া ভাবনা পেয়ে বসেছিল লন্ডনের ঞযধহরপধষ ডধৎফ নামে এক চযুংরপরধহ এর। তার ফার্ণ আর মসের ভরা বোতল গার্ডেনই ক্রমে ক্রমে উৎকর্ষ লাভ করেছে। এই চিন-াকে একটু মাথায় নিয়ে ব্যস-তার মাঝ থেকে কিছু একান- সময় বের করে আপনিও একটা রূপচান্দার বড় কন্টেইনার কিংবা স্বচ্ছ বড় কোন বোতলে গড়ে তুলতে পারেন আপনার স্বপ্নের বাগান। আপনার বসার ঘরের টেবিল ল্যাম্পের পাশে কিংবা ঘরটির লাইটের ঠিক নিচে অবসি’ত শো-কেসের উপরের মন মাতানো অহংকারী সেই ব্যতিক্রমী আইটেমটি। আহ! তাই না…….।
তাহলে ঝটপট জেনে নিন কর্ম পদ্ধতি (রেসিপি) ঃ
(১) বোতল প্রস’তি ঃ
- খুব ভালো করে ধোয়া চকচকে উজ্জ্বল স্বচ্ছ বোতল, কাঁচ কিংবা পারপেক্স।
- ভালো করে শুকোনো।
- আকর্ষণীয় এবং যে জায়গায় রাখবেন তার সাথে খাপ খাপয় এমন আকৃতির।
- ছিপি সহ ইত্যাদি।
(২) কি করতে যাচ্ছেন?
- বোতলটির ভেতরে গাছ জন্মানোর উপযোগী সিনি দিয়ে তাতে পছন্দসই বাহারী গাছ লাগাবেন।
- সেচ/ পানি দিয়ে এমন একটা বহারৎড়হসবহঃ বোতলে গড়ে তুলতে হবে যাতে ছিপি বন্ধ করে দিলে এর ভিতরে নিজস্ব একটা ইকো-সিস্টেম গড়ে ওঠে এবং
- একই বোতলের রুদ্ধ জগতে যেন গাছগুলো তার খরভব পুপষব পুরো করতে পারে, আর
- আর…….আর…… মনে পড়ছে না, ভুলে গেছি। দেখি পরবের্তীতে কলম থেকে বেরোয় কিনা?
(৩) পরবর্তী কাজ ঃ
…..: চড়ষঃরহম পড়সঢ়ড়ংঃ
ফর্মুলা-১
১. বেলে-দোঁয়াশ মাটি-১ ভাগ
২. পাতা পঁচাপাতা শুকনো- ১ভাগ গোবর
৩. কাঠ ময়লা গুড়ো-১ ভাগ
৪. মোটা বালি এবং ছাই-সামান্য (১ ভাগ)
ফর্মুলা-২
১. বেলে দোঁয়াশ মাটি- ১ ভাগ
২. পুকুরে তলার পঁচা কালো-
১ ভাগ (কানে কানে বলে দিচ্ছি কলা বাগান লেখপাড়ে এখন পাবেন)
মাটি-খুলনার ডাকাতিয়া বিলের মাটি
৩. কাঠ কয়লা গুঁড়ো- ১ভাগ।
ফর্মুলা-৩
১. বেলে-দোয়াশ মাটি- ১ভাগ
২. স-ডাস্ট/ করাতের গুড়ো-১ভাগ
৩. কাঠ, ময়লা গুড়ো- ১ ভাগ
এখানে বলি রাখি, সামান্য জীবাণু কিংবা বিষাক্ত পদার্থ আপনার সব প্লান কেচে দিতে পারে। তাই উপাদাগুলো সংগ্রহ করে কড়া রোদে দু’চারদিন শুকিয়ে নিন,পারলে একটু রাসায়নিক শোধন করে নিলে ভালো হয়। মাটিগুলোকে ভালোভাবে সঠিক অনুপাতে মিশিয়ে চৈলে নিতে হবে, যাতে সুক্ষ্ম কণাই থাকে এবং ঝুর ঝুর শুকনো হয়।
(৪) তারপর ঃ
তার আর পর নেই কোন……. থুড়ি আছে তো, আরও বাকি আছে। অস্ত্র বানাতে হবে না। তা না হলে বোতলের ভেতর সন্ত্রাস না মানে কাজ করবেন কিভাবে। আম্মার কাছে বকা খেয়ে একটা চা চামচ আর একটা কাঁটা চামচ চেয়ে নিন আর কুঞ্চির মাথায় বা চিকন কাঠে বেঁধে তার নেটওয়ার্কের এরিয়া মানে দৈর্ঘ্য একটু বাড়িয়ে নিন। এক্ষেত্রে লম্বালম্বি দু’টো জিনিস জোড়া দিতে কি ল্যাশিং ব্যবহার করবেন বলুন তো? আর লাগবে কাগজের তৈরি একটা ফানেল।
(৫) তারপর ঃ
শুকনো মাটির মিশ্রণ কাগজের তৈরি ফানেল দিয়ে বোতলে চালান করে দিন কিন’ সাবধানে, যাতে বোতলের গায়ে না লাগে। পুরো বোতলের ১/৪ ভাগ কিংবা আপনার নির্বাচিত গাছের আকার মত বোতলের মাটির স-র সৃষ্টি করুন।
- চিকন পাইপ দিয়ে (স্যালাইন সেট দিয়ে) পানি দিয়ে মাটিটাকে সামান্য ভিজিয়ে নিন।
২/১ দিন পর পর ভিজেয় মুখ বন্ধ করে রাখুন এবং খেয়াল করুন মাটিতে জো এসেছে কিনা। (জো হচ্ছে- না সংক্ষেপে বোঝাতে পারব না)।
- আপনার বোতল এবং মাটি গাছ লাগানোর জন্য তৈরি।
(৬) ইসকে বাদ ঃ
- থোড়াসা আর কম মাগার-মাগার মুগারটা হচ্ছে আসল কাজ, মানে কি গাছ লাগাবেন এবং কিভাবে লাগাবেন?
- আপনার পছন্দসই রঙের, ফুলের যেকোন গাছ, কিন’ এক্ষেত্রে ফরজ হলো অবশ্যই ছোট জাতের বা ক্ষুদ্র শ্রেণীর হতে হবে। যেমন-হতে পারে বিভিন্ন ধরনের ফার্ণ, মস, পাতা বট, পাতা বাহর, শতমূলী, মানি প্লান্ট, স্পাইডার প্লান্ট, বাহারী ঘাস, লালপাতা, বিভিন্ন ধরনের ফোসকু ঘাস, ক্ষুধে বাঁশ, থানকুনি ইত্যাদি। নার্সারীতে গিয়ে দেখবেন ক্ষুদে সাইজের কি কি গাছ টবে হয়। তার পর ফুল, পাতা রং বিচার করে মনের মাধুরী মেশানো বাগানটি তৈরি করুন। মনে রাখবেন পরিবেশ ও পরিসর অনুপাতে যেন গাছ হয়।
- লাগানোর জন্য কোদাল ও সাবল হচ্ছে চা চামচ ও কাটা চামচের সেই অস্ত্র দুটো, যা এখন কাজে লাগছে সৃষ্টিতে, সন্ত্রাসে নয়। ঠিক যেমনি বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্ত্র কাজে লেগেছিল মুক্তিযুদ্ধে পরবর্তীতে নয়- ধুর খালি ব্রেকলেস হই।
(৭) ফাইনাল টাচ ঃ
- গাছগুলোর গোড়ায় মাটি দিয়ে ভালো করে বসিয়ে দিলে সব টিকে যাবে এবং বাড়তে থাকবে।
- মুখ খুব ভালো করে এয়ার টাইট করে দিতে হবে। আলোতে বোতলকে রাখতে হবে, কিন’ প্রখর সূর্য লোক পড়ে এমন জায়গায় নয়।
- বছরে একবার একটু পানি লাগতে দেবেন। বাকী ……. না আর কিছু নেই। বাকীটা ঠেকে শিখতে হবে। মনে রাখবেন, খুব সূক্ষ্ম কাজ। তাহলে আজকের মত বন্ধ করি আমার মাথার সি-পি-ইউ আর হাতের প্রিন্টার। শুধু শুধু একটা প্রোগ্রামিং বানালাম। জানিনা, আপনাদের কাছে রান করবে কিনা আর এর জন্য তো, না বাকীটা বলবো না। গুডবাই।