সমাজের লোকজনকে উদ্বুদ্ধ করতে স’ায়ী উন্নয়নমূলক কাজ, যা স্বনির্ভরতা অর্জনে সহায়তা করে, তাকে সমাজ উন্নয়নমূলক কাজ বলে। সমাজ উন্নয়নমূলক কাজ যে সব ক্ষেত্রে ফলপ্রসূ হতে পারে, তার মধ্যে রয়েছে সমাজ ব্যবস’া ও পরিবেশ সৃষ্টি, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি এবং শিক্ষার সমপ্রসারণ। এসব দিক লক্ষ রেখেই স্কাউটদের আত্মসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষে যে কোন স্কাউট দল তাদের স্বল্প সুযোগ সুবিধাকে কাজে লাগিয়ে মৎস্যচাষ প্রকল্প গ্রহণ করতে পারে এবং স্কাউটিং, ব্যক্তিগত ও সামাজিক জীবনে অত্যন- গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
যেহেতু বিদেশী মাগুর চাষকে আমি স্কাউটদের কাছে একটি প্রকল্প হিসেবে উপস’াপনে সচেষ্ট, তাই আমার এ লেখাটিতে প্রকল্পটি সম্পূর্ণ কিভাবে নিতে ও অগ্রসর হতে হবে তার একটি বাস-ব রূপরেখা প্রদান করব। আর তাই এটিকে বিদেশী মাগুর চাষ বিষয়ক প্রবন্ধ বলে না মনে হয়ে একটি প্রকল্প রিপোর্ট বা প্রকল্প প্রস-াবনা ও বাস-বায়ন পদ্ধতি বলেও মনে হতে পারে। বিরক্ত না হয়ে দীর্ঘ এই রচনাটি গুরুত্ব সহকারে পড়ার অনুরোধ রইল।
ধারণা সৃষ্টি ও বিকাশ ঃ
আমাদের দেশ একটি দরিদ্র কৃষি নির্ভর দেশ। তাই কৃষিই আমাদের উন্নতির প্রধান মাধ্যম। বাংলাদেশ স্বাস’্য অধিদপ্তরের একটি রিপোর্টে দেখা যায়, বাংলাদেশে মোট জনসংখ্যার একটি বিরাট অংশ আমিষের অভাব ও অভাবজনিত বিভিন্ন রোগে ভুগছে। এই আমিষের অভাব পূরণ, স্কাউটদের উপরকার ও সমাজ সেবা করার ব্রত পুরনের জন্য বিদেশী মাগুর চাষ স্কাউটদের জন্য একটি প্রকল্প হতে পারে।
তাছাড়া সকল কিছুর সাথেই রয়েছে অর্থের সম্পর্ক। স্কাউটিং তথা যে কোন কাজ করতে গেলেই চাই অর্থ। স্কাউট দলেরও ব্যক্তিপর্যায়ে আয়ের উৎস হিসেবে প্রকল্পটি একটি সফল ভূমিক রাখবে।
সর্বোপরি, স্কাউট প্রোগ্রামের মৎস্য চাষ বিষয়ের সাথে এটি ওতপ্রোতভাবে জড়িত এবং প্রকল্পটি একটি অতিসহজ প্রকল্প।
প্রকল্পটি গ্রহণ করার জন্য পরবর্তীতে একটি দলকে যা করতে হবে তা হল, স্কাউট লিডার, সহঃ স্কাউট লিডারসহ প্যাট্রল লিডাররা সবাই এ বিষয়ে একত্রে আলোচনা আরম্ভ করতে হবে।
স’ান নির্বাচন, প্রয়োজনীয় তথ্যসংগ্রহ, বিশ্লেষণ ও সমস্যাচিহ্নিত করন ঃ
ধারণা সৃষ্টি না হয় হল, পরবর্তীতে প্রশ্ন নিশ্চয়ই জাগছে কিভাবে এ মাছ চাষ করব? চৌবাচ্চায় আবার মাছ চাষ সম্ভব নাকি? চৌবাচ্চা যদি না থাকে? ইত্যাদি। গ্রাম ও মফস্বলের স্কাউট দলের না হয় পুকুর আছে, কিন’ শহরের দলে? এই অসুবিধা দূর করার জন্যই আমি একটা অদ্ভুত চমৎকার ব্যবস’া আপনাদের গোচরীভূত করছি। সকল স্কুল কলেজ তৈরি হবার সময় ইট ভেজানোর জন্য একটি ছোট চৌবাচ্চা বানানো হয়। কিংবা প্রতিষ্ঠান বা বাড়ির ধারে পরিত্যক্ত ছোট্ট একটি জায়গা পাওয়া গেলেই চলবে। একটা ১৫ ফুট দীর্ঘ, ৫ ফুট প্রস’ ও ৩ ফুট গভীরতা বিশিষ্ট হাউস হলেই চলছে। যদি না পাওয়া যায়, তবে খুব সহজেই এই মাপের একটি গর্ত খুঁড়ে পলিথিন বিছিয়ে পানি ধারনের ব্যবস’া করে একটি মিনিপুকুর তৈরি করে নাও, যা দিয়ে ১০০টি পোনা মাগুর পালন ও চাষ করে, তিন মাসেই বড় করে বিক্রি করা যাবে।
স্কাউট ও স্কাউটার বন্ধুরা, পরবর্তী কাজ তথ্য সংগ্রহ, বিশ্লেষণ ও সমস্যা চিহ্নিত করে তার বিষদ বর্ণনা আমি নিচে উপস’াপন করছি। তবে তার পূর্বে আর একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় যার উপর প্রকল্পের সাফল্য অনেকাংশে নির্ভর করছে, তার কথা বলি। তা হলো ইউনিট কমিটির মিটিং-এ আলোচনা সাপেক্ষে মৎস্য চাষের জন্য একটি বিশেষ কমিটি গঠন করতে হবে। এর মাধ্যমে প্রকল্প প্রস-াব প্রণয়ন ও বাস-বায়ন হবে। কমিটির দায়িত্ব বণ্টন নিম্নরূপ হতে পারে ঃ-
প্রকল্প উপদেষ্টা-সভাপতি ও সহ-সভাপতি ‘ক’ স্কাউট দল।
প্রকল্প পরিচালক-স্কাউট লিডার।
প্রকল্প সমন্বয়কারী- সহঃস্কাউট লিডার কিংবা দলের সাথে সক্রিয় রোভার বা দল কমিটির মনোয়নক্রমে দায়িত্বশীল কোন ব্যক্তি।
প্রকল্প পরামর্শদাতা-প্রতিষ্ঠানের কৃষি বিজ্ঞান শিক্ষক, থানা মৎস্য কর্মকর্তা।
প্যাট্রল লিডার বৃন্দ-
(১) হিসাব রক্ষক
(২) জিনিসপত্র (যেমন-খাদ্য) ক্রয় ও সংরক্ষক
(৩) স্কাউটদের কাজ করার সময়সূচী ও তালিকা প্রস’তকারী
(৪) রেকর্ড কীপার ইত্যাদি।
সংগৃহীত তথ্য ঃ
মাগুর মাছ এদেশের মানুষের অত্যন- প্রিয় মাছ। মিঠা পানির এই মাছটি সুস্বাদু ও দ্রুত বর্ধনশীল। যে কোন আকারের জলাধারে এ মাছ চাষ করা যায়। নিয়মিত সার, খাবার ও পানি সরবরাহ করে বিদেশী মাগুর যে কোন মিনিপুকুর চৌবাচ্চায় চাষ সম্ভব।
পরিচিতি ঃ
বিদেশী এ মাগুরের আকৃতি দেশী মাগুরের চেয়ে বড় এবং অধিক প্রোটিন সমৃদ্ধ। দ্রুত বর্ধনশীল এ মাছের চাষ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে হচ্ছে। ১৯৮৮ সালে সরকারীভাবে এ মাছ আনা হয় থাইল্যান্ড থেকে। পরবর্তীতে এ মাছই থাইল্যান্ড/ আফ্রিকান মাগুর ইত্যাদি নামে পরিচিত হয়।
চৌবাচ্চা/মিনি পুকুর প্রস’তি ঃ
পূর্বের মাপ অনুযায়ী চৌবাচ্চাটি ভাল করে পরিষ্কার করে জীবাণুমুক্ত ও অন্যান্য উদ্দেশ্যে চৌবাচ্চায় ১০০ গ্রাম চুন গুলে ছিটিয়ে দিতে হবে। চুন দেয়ার পর পানি সরবরাহ করে পরদিন ছিটিয়ে দিতে হবে। চুন দেয়ার পর পানি সরবরাহ করে পরদিন (১-২) কেজি পচা গোবর, (১-২) কেজি মুরগীর বিষ্ঠা পচা ছিটিয়ে দিতে হবে। দুএকদিন পর চৌবাচ্চার পানি ভালভাবে নেড়ে দিয়ে ১৫০ গ্রাম খৈল, ১০০ গ্রাম চাউলের কুড়া, ৫০ গ্রাম শুটকী মাছ ও ২৫ গ্রাম করে ইউরিয়া ও টি,এস,পি দিতে হবে। দুই তিন দিনের মধ্যে পানির বর্ণ সবুজ হয়ে যাবে। এ অবস’াই মাছ চাষের জন্য উপযুক্ত।
পোনা প্রাপ্তি ও মজুদ ঃ
যে কোন সরকারী, বেসরকারী হ্যাচারী, পোনা বিক্রেতা, সরকারী কৃষি খামারে পোনা পাওয়া যায়। একটু খোঁজ নিন। পোনার দাম সাধারণত প্রতি পিস ১ ইঞ্চি মাপের দুই টাকা। এ মাপের ১০০টি পোনা চৌবাচ্চা/মিনি পুকুরটিতে মজুত করুন। ব্যাঙ ও অন্যান্য পানির প্রাণী থেকে পোনাকে রক্ষা করুন। দরকার হলে বড় আকারের (৫-৭ ইঞ্চি) পোনা ব্যবহার করুন।
খাদ্য ঃ
যে পদ্ধতি এখানে বর্ণনা করা হচ্ছে তাতে সম্পূরক খাদ্য অপরিহার্য। পোনা মজুতের পর দিন থেকে খাদ্য দিতে হবে। নিম্ন তালিকা অনুযায়ী খাদ্য তৈরি করুন-
১. সয়াবিন/ তিল/ সরিষার খৈল - ৪০%
২. আতপ চাউলের কুড়া - ৪০%
৩. শুটকি গুড়া ঃ পেরু ফিশ- ২০%
মোট-১০০%
এর সঙ্গে জবাইকৃত প্রাণীর জমা রক্ত, নাড়িভড়ি, ঝিনুক বা শামুকের মাংস এবং সামান্য পরিমাণ লবণ, আটা ও ভিটামিন মিশ্রিত করলে খাদ্যের গুণগতমান বৃদ্ধি পায়। খাদ্য উপাদানের বিশুদ্ধতার প্রতি লক্ষ্য রাখুন, তা না হলে মাছ রোগাক্রান- হতে পারে। প্রতি সপ্তাহে ৩০ গ্রাম হারে ইউরিয়া ও টি,এস,পি সার প্রয়োগ করুন এবং সার ব্যবহারের হার মাছের বৃদ্ধির সাথে ধীরে ধীরে বৃদ্ধি করুন।
খাদ্য প্রয়োগের পরিমান ঃ
প্রথম পাঁচ দিন প্রতিদিন ২৫০০ গ্রাম হারে
দ্বিতীয় পাঁচ দিন প্রতিদিন ৪০০ গ্রাম হারে
তৃতীয় পাঁচ দিন প্রতিদিন ৫০০ গ্রাম হারে
চতুর্থ পাঁচ দিন প্রতিদিন ৬০০ গ্রাম হারে
পঞ্চম পাঁচ দিন প্রতিদিন ৭০০ গ্রাম হারে
ষষ্ঠ পাঁচ দিন প্রতিদিন ৮০০ গ্রাম হারে
সপ্তম পাঁচ দিন প্রতিদিন ৯০০ গ্রাম হারে
অষ্টম পাঁচ দিন প্রতিদিন ১০০০ গ্রাম হারে
নবম পাঁচ দিন প্রতিদিন ১১০০ গ্রাম হারে
দশম পাঁচ দিন প্রতিদিন ১১০০ গ্রাম হারে
একাদশ পাঁচ দিন প্রতিদিন ১২৫০ গ্রাম হারে
পানির রং যদি কখনো গাঢ় সবুজ বা পানির উপর সবুজ আবরণ পড়ে তাহলে খাদ্য প্রয়োগ বন্ধ রাখুন।
পানি পরিবর্তন ঃ
২৫-২৮ দিন পর পর চৌবাচ্চার প্রায় সবটুকু পানি সেচে ফেলে, সঙ্গে সঙ্গে আবার নতুন পানি সরবরাহ করুন। এরপর ১৫ গ্রাম চুন গুলে সমস- পানিতে ছিটিয়ে দিন।
মাছ আহরণ ঃ
মাছের ওজন ২০০-২৫০ গ্রাম হলেই বিক্রি করে দেয়া ভালো। কারণ এরকম মাছের চাহিদা বেশী এবং স্বল্প সময়ে আবার মাছ ছাড়া যাবে।
উৎপাদন ঃ
৬৭-৭৫ দিনের এক চাষ পরিপূর্ণ পরিচর্যার ব্যবস’া করলে ১০০টি পোনার প্রায় ৯৬টি বেঁচে থাকবে, যার মোট ওজন হবে প্রায় ১৭৫ কেজি। প্রতি কেজির বাজার দর প্রায় ৬৫-৭৫ টাকা।
অসুবিধা ঃ
অন্য মাছের সাথে মিশ্র চাষ সম্ভব নয়।
উপরোক্ত তথ্যসমূহ আপনাকে প্রকল্পটি গ্রহণে উদ্বুদ্ধ করেছে। তাহলে আসুন না প্রকল্পটি দলীয়/ ব্যক্তিগত প্রকল্প হিসাবে গ্রহণ করি। আসলে এরকম একটি বাস-ব প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে রাইফেলস পাবলিক স্কুল স্কাউট দলে। এখন দেখা যাক স্কাউট প্রকল্প প্রস-াবনা ও বাস-বায়ন রীতি কেমন হবে, যা এ প্রকল্পের সাফল্যের মূল শর্ত।
প্রকল্প প্রস-াব প্রনয়ন ঃ
প্রকল্পের শিরোনাম/ অবস’ান
ধরা যাক, প্রকল্পটির শিরোনাম
“বিদেশী মাগুর চাষ প্রশিক্ষণ ও উদ্বৃদ্ধকরণ প্রকল্প” রাইফেলস পাবলিক স্কুল স্কাউট দল।
কলেজ ক্যাম্পাস, পিলখানা, ঢাকা-১২০৫
প্রকল্পের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য ঃ
আশির দর্শকের গোড়া থেকে ভবিষ্যতের কথা চিন-া করে স্কাউট প্রোগ্রামকে সমাজ উন্নয়ন কর্মকান্ডের সাথে সম্পূর্ণ সম্পৃক্ত করা হয়েছে। স্কাউট দলের অর্থায়ন ও আরও কিছু অতিগুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নিয়ে এই প্রকল্প।
১. স্কাউটদের বিদেশী মাগুর চাষ সম্পর্কে জ্ঞানদান ও হাতে কলমে প্রশিক্ষণ প্রদান।
২. স্কাউটদের নিজস্ব স্বনির্ভর প্রকল্প গ্রহণে উৎসাহ প্রদান ও ব্যবস’া গ্রহণ।
৩. যেহেতু স্কাউটিং এবং এ প্রকল্পের উদ্দেশ্য বালকদের অবসর সময়টুকুর অর্থবহ ব্যবহার ও আত্মনির্ভরশীলতা অর্জন, তাই এ প্রকল্প উপকারে আসবে বলে আশা করা যায়।
৪. যেহেতু এখন মাধ্যমিক শিক্ষায় কৃষি বাধ্যতামূলক করা হয়েছে, তাই এ প্রকল্প সকলের কাছে, এমনকি স্কুলের অন্যান্য ছাত্র-ছাত্রীদের কাছেও দৃষ্টান- হয়ে থাকবে। ঢাকা শহরের স্বল্প পরিসরে এ রকম ছোটখাট প্রকল্প গ্রহণ ও তা থেকে অর্থ উপার্জন সম্ভব, এ ধারণা স্কাউট ও সকলের মধ্যে জন্মাবে। যার ফলে এটির সমপ্রসারণ স্কাউটদের ব্যক্তিগত প্রকল্পে পরিণত হবে।
৫. প্রকল্পটি হতে স্কাউট দলের যেমন আর্থিক সহায়তা হবে, তেমনি স্কাউটদের সাথে সাথে স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীরাও উপকৃত হবে। কৃষি বিজ্ঞানের ব্যবহারিক মৎস্য চাষ প্রকল্প হিসেবেও ব্যবহৃত হতে পারে।
৬. প্রথম চাষের পরেই এটি একটি স্বনির্ভর প্রকল্পে পরিণত হবে।
কাজ তদারকী ঃ
কাজের সকল বিষয় পরিচালনা ও বাস-বায়নের দায়িত্ব স্কাউট লিডার ও তার সহকারীর ওপর। তাদের মাধ্যমেই স্কাউটরা পরিচালিত হবে। সিনিয়র প্যাট্রল লিডার ও অন্যান্যদের সহযোগিতায় দায়িত্ব বণ্টন তালিকা বা রোস্টার সপ্তাহ ভিত্তিক তৈরি করে বাস-বায়ন করতে হবে। এছাড়া প্রকল্প এলাকার পাশে বসবাসকারী তিনজন স্কাউট বিশেষ রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে থাকবে। স্কাউটদের প্রতিষ্ঠানে অনুপসি’তিকালীন সময়ে রক্ষণাবেক্ষণের জন্য প্রতিষ্ঠান প্রধানের বিশেষ নির্দেশে অন্যদেরকে দায়িত্ব দিতে হবে।
প্রকল্প ব্যবস’াপনা ঃ
প্রকল্পের সম্পদ, জনশক্তি, সরঞ্জাম ও অর্থ-ব্যবস’াপনা- সবকিছুই দল কর্তৃক করা যাবে, যেমন-
১. চৌবাচ্চা বা মিনিপুকুর সম্পূর্ণই প্রতিষ্ঠানের
২. অর্থায়ন হবে দল কমিটির অনুমোদনক্রমে দলীয় স্কাউট তহবিল থেকে।
৩. অন্যান্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জামও প্রতিষ্ঠান এবং স্কাউট দল সরবরাহ করবে।
৪. কারিগরী জ্ঞান ও প্রশিক্ষণের ব্যাপারে আগেই বর্ণনা করা হয়েছে।
সাফল্য ও সম্ভাবনা ঃ
যেহেতু আটঘাট বেধে সুষ্ঠু পরিকল্পনার মাধ্যমে প্রকল্পটি গ্রহণ করবেন, তাই বিরাট কোন ক্ষতির সমূহ সম্ভাবনা নেই। সে কারণে সাফল্যের সম্ভাবনা সর্বাধিক এবং পূর্বেই দেখানো হয়েছে যে, প্রকল্প হিসেবে আফ্রিকান মাগুর চাষ অবস’ানুযায়ী সময়োপযোগী একটি প্রকল্প, সুষ্ঠু ব্যবস’াপনাই প্রকল্প সাফল্যের মূল। তাই সবার ঐকানি-ক ইচ্ছা থাকলে সাফল্য লাভ প্রায় নিশ্চিত।
জাতীয় স্কাউট সংগঠনের উদ্দেশ্যের সাথে প্রকল্প সম্পর্ক ঃ
বাংলাদেশ স্কাউটস্ সমাজ উন্নয়ন প্রকল্প নির্বাচনে নিম্নলিখিত নীতিমালা অনুসরণ করা সমীচীন বলে মনে করে (সমাজ উন্নয়ন কণিকা অনুযায়ী) ঃ
প্রথমত ঃ স্কাউট প্রকল্প হবে অত্যন- সহজ, বাস-বায়নযোগ্য এবং সেক্ষেত্রে স্কাউটদের শক্তি সামর্থ ও রুচিগ্রাহ্য হতে হবে।
আলোচ্য প্রকল্প ঃ প্রকল্পটি সহজ বাস-বায়নযোগ্য; যা রাইফেলস পাবলিক স্কুলে প্রয়োগ করে প্রমাণ পাওয়া গেছে এবং স্কাউটদের মধ্যে বিপুল উৎসাহ ও সাড়া পাওয়া গেছে।
দ্বিতীয়ত ঃ সম্পূর্ণভাবে স্কাউট প্রোগ্রামের সাথে সম্পৃক্ত হতে হবে। অর্থাৎ স্কাউটরা সাফল্যের স্বীকৃতি স্বরূপ সংশ্লিষ্ট ব্যাজ অর্জন করতে পারে।
আলোচ্য প্রকল্প ঃ প্রকল্পটি সম্পূর্ণ প্রোগ্রামের সাথে যুক্ত এবং হাতে কলমে প্রশিক্ষণ গ্রহণ ও কাজের স্বীকৃতি স্বরূপ পারদর্শিতা ব্যাজ অর্জন করবে।
তৃতীয়ত ঃ নির্বাচিত প্রকল্পের যেন একটি স’ায়ী আবেদন সমাজের সর্বস-রে অনুভূত হয়।
আলোচ্য প্রকল্প ঃ অবশ্যই সম্ভব হবে। তার রূপরেখা লেখার পূর্বে বিশদভাবে দেয়া হয়েছে।
চতুর্থত ঃ প্রকল্পটি যেন বাংলাদেশ সরকারের উন্নয়ন কর্মসূচির পরিপূরক হয়।
আলোচ্য প্রকল্প ঃ বাংলাদেশ সরকারের মৎস্য চাষ ও সমপ্রসারণ এবং কৃষি ব্যবস’ার উন্নয়ন ও শিক্ষা ব্যবস’ার পরিপূরক।
পঞ্চমত ঃ বাস-বায়ন ও ফল লাভের সময়সীমা নাতিদীর্ঘ হওয়া বাঞ্ছনীয়।
আলোচ্য প্রকল্প ঃ উৎপাদন সময় মাত্র ৩-৪ মাস। এই প্রকল্পের সাফল্য ও সম্ভাবনা নিরূপণ ও স্কাউট প্রোগ্রাম বাস-বায়ন অতিসহজে করা সম্ভব হচ্ছে।
প্রকল্পে বিস-ারিত বাজেট ঃ
(গ্রহণকারী দল কর্তৃক পূরনীয়)
ব্যয় খাত টাকা
ক. বিনিয়োগ ও ব্যবস’াপনা ব্যয়ঃ সংস্কার পরিবহন ও সংরক্ষণ মজুরী ও অন্যান্য খ. উপকরণগত প্রসম্ভার জনিত বয় চুন গোবর/ জৈব সার অজৈব রাসায়নিক সার খাদ্য ঃ ১. খৈল ২. চাউলের কুড়ো ৩. পেরু ফিশ ৪. অন্যান্য মজুত পোনা ঔষুধ ও অন্যা্য
সর্বমোট-
আয়- মাছ বিক্রয়-
মুনাফা (আয়-ব্যয়)-
বন্ধুগণ আমার এই দীর্ঘ ও বিরক্তিকর আলোচনা এই মাত্র শেষ করলাম। তবে শেষ করেও শেষ কথা এই যে, প্রকল্পটি যদি আপনাদের পছন্দ হয় এবং নাড়া দেয় এবং আমার এই লেখা পড়ে উদ্বুদ্ধ হয়ে কেউ যদি ব্যক্তিগত বা দলীয় পর্যায়ে তা গ্রহণ করেন, তবেই পরিশ্রম সার্থক হবে।




