১৯৯৩ সনে বয় স্কাউটস অব নিপ্পনের ‘এপি ইনভাইটেশন প্রোগ্রাম ৯৩ ও প্রথম এশিয়া প্যাসিফিক পরিবেশ সংরক্ষণ ক্যাম্প’ এ বাংলাদেশ স্কাউটসের প্রতিনিধি দলের সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলাম আমরা তিনজন-
১। জনাব আব্দুল কাইউম ঠাকুর (দলনেতা)
উপ-জাতীয় কমিশনার (সমাজ উন্নয়ন)
বাংলাদেশ স্কাউটস

রাষ্ট্রপতির একান- সচিব, বাংলাদেশ সরকার।
২। স্কাউট ফজলে করিম ইবনে রহমান (সদস্য)
ল্যাবরেটারী হাই স্কুল, রাজশাহী।
৩। এবং আমি
এ,এ,এম সাঈদুর রহমান (সদস্য)
রাইফেলস পাবলিক স্কুল, স্কাউট দল, ঢাকা।
সকল আয়োজন সমাপ্ত করার পর ২৯শে জুলাই বাংলাদেশ বিমান যোগে টোকিওর উদ্দেশ্যে রওনা হলাম জাপান স’ানীয় সময় ৯.৩০ মিনিটে আমরা থাইল্যান্ড ও সিঙ্গাপুর হয়ে টোকিওর নারিতা আন-র্জাতিক বিমান বন্দরে পৌছালাম। এয়ারপোর্টে পৌছানোর মিনিট ৪৫ আগে আমার সৌভাগ্য হলো জাপানের বিখ্যাত আগ্নেয়গিরি ও পর্বত মাউন্ট ফুজিয়ামা দেখায়। এয়ারপোর্টে আমাদেরকে সাদর আমন্ত্রণ জানালেন জাপান স্কাউটসের রিসিপসন টিমের সদস্য ও প্রোগ্রাম ডিপার্টমেন্টের কর্মকর্তা মিঃ আকিজুকি সান। তিনি আমাদেরকে বি.এস.এন এর হেডকোয়ার্টারে নিয়ে গেলেন এবং সেখানে আর এক দফা সাদর সম্ভাষণ জানালেন আন-র্জাতিক বিভাগীয় প্রধান মিঃ নোডাসান ও মিস আসাকো হোরিয়ে প্রোগ্রামের পরবর্তী চারদিন আমাদের টোকিওতে এখানেই ডরমেটরিতে অবস’ান করতে হলো। একে একে সব প্রতিনিধি দল এসে ভিড়তে লাগলো এখানে। এরই মধ্যে নেপালের বিশাল ইন্দোনেশিয়ার ‘জিমি’, মালদ্বীপের ‘আজলিম’ ও কোরিয়ার ‘ডং’ এর সাথে বন্ধুত্ব হয়ে গেল। এর মধ্যেই আমরা টোকিওর একটি ছোট চিড়িয়াখানা, বোটানিকাল গার্ডেন ও ঐতিহাসিক মিউজিয়াম দেখে এসেছি। সব দল (অংশগ্রহণকারী ১৫টি দেশ আসারপর সেদিন রাতে, বি,এস,এন এর চীফ আমাদের সম্মানার্থে একটি পার্টির আয়োজন করলেন। জাপান স্কাউটস এর চীফ, সকল জাতীয় কমিশনার ও কর্মকর্তারা এতে উপসি’ত ছিলেন। পরবর্তী দু’দিনের কার্যক্রম ছিল বাস যোগে টোকিও ভ্রমণ। প্রথম দিন আমরা টোকিও মেট্রোপলিস বিল্ডিং (টোকিওর সর্বোচ্চ ভবন, ২০৪০ মিঃ উচ্চতা, ব্যয় ১০০৫০৫৫ বিলিয়নইয়েন) জিমনেসিয়াম ও ১৯৯৪ সালের এশিয়ান গেমসের জন্য নির্বাচিত অলিম্পিক স্টেডিয়াম, আকাসাকা হোটেল, টোকিও টাওয়ার ও রাজকীয় রাজপ্রাসাদ দেখলাম। প্রথম দিনের ভ্রমণের মধ্যে সবচেয়ে স্মরণীয় ‘টোকিও টাওয়ার’ ও ‘ইন্দোক্যাসেল’ পরিদর্শন টোকিও টাওয়ার হুবহু প্যারিস টাওয়ার (আইফেল টাওয়ার) এর অনুরূপ। আমার সৌভাগ্য হয়েছিল লিফটে প্রায় হাজার ফিট উপরে এর মাথায় ওঠার। পরবর্তী দিনের ভ্রমণ জাপানী ডায়ট বিল্ডিং বা পার্লামেন্ট, পুলিশ হেড কোয়ার্টার, আর্ট গ্যালারী, টোকিও রেল ষ্টেশন (আর্মস্টার্ডাম স্টেশনের অনুরূপে তৈরি) দেখে জাপানের বিখ্যাত আসাকুসা টেম্পল ও সেরাইন’ দেখতে গেলাম। ফেরার পথে যখন রেইবো ব্রিজ পার হচ্ছি তখন আমি আশ্চর্যই হলাম ছবির মত সাজানো জাপানকে দেখে। প্রায় চারদিন পার হয়ে গেল এখানে এসেছি এবং গাড়িতে করেই ঘুরে বেড়াচ্ছি অথচ একবারও গাড়ির হর্নের আওয়াজ শুনিনি। গাড়িতে মাইক্রোফোনের ব্যবস’া থাকায় আমরা একটা অনুষ্ঠানের আয়োজন করলাম সেখানে গাওয়া ‘আমাদের প্রথম বাংলাদেশ আমার শেষ বাংলাদেশ’ গানটি খুব সমাদৃত হলো।
পরবর্তী দিন আমাদের পরবর্তী প্রোগ্রাম ইকো ক্যাম্প এ যোগদানের জন্য টোকিওর হানেদা এয়ারপোর্ট হতে অন্য একটি দ্বীপ কিউসু এর ওহিতার উদ্দেশ্যে রওনা দিলাম, সেখানে পৌছানোর পর সারাদিন আমরা শহরটি ঘুরে ও বিভিন্ন পরিবেশ সংরক্ষন প্রোজেক্ট পর্যবেক্ষন করে দিনটি অতিবাহিত করে সমুদ্র পৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৮০০০ মিঃ উচুতে জাপানের জাতীয় পার্কের একটি ‘ইউথ হোস্টেলে’ রাত্রিযাপন করলাম। এখানে বলে রাখি জাপান একটা পর্বতময় দ্বীপরাষ্ট্র।
পরবর্তী দিন ভোর বেলা জাপানের নৈসর্গিক দৃশ্য অবলোকন করতে করতে বাস যোগে আমাদের ক্যাম্প সাইড ‘মাউন্ট’ কাজুর মালভূমিতে যেয়ে পৌছালাম। ছোট ছোট দলে ভাগ করায় আমাদের সাথে আরও চারজন জাপানী স্কাউট যোগ দিয়ে একটি উপদল, স্কাউটের ভাষায় ‘প্যাটল’ তৈরি করা হলো, অত্যন- সুন্দর ও দারুণ শিক্ষামূলক পরিদর্শন, ভ্রমণ ও হাতেকলমে পরিবেশ সংরক্ষণের ট্রেনিং দেওয়া হলো আমাদেরকে এখানে আমরা যে সব প্রোজেক্ট দেখলাম তার মধ্যে ডেইরী ফার্ম ও রিসাক্লিং প্রোজেক্ট কাওডাং, ভূগর্ভস’ তাপের মাধ্যমে বিদ্যুৎ তৈরি বেপু জিওথারমাল প্লান্ট উল্লেখযোগ্য। অত্যন- দুঃখের বিষয় এই যে প্রচণ্ড বৃষ্টি ও টাইফুনের জন্য আমাদের একটি প্রোগ্রাম মাউন্ট কুজু আরোহন বাদ হয়ে গেল। প্রতিটি কার্যক্রম, ডিসকাশন,মিটিং ও বক্তৃতায় আমার সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে বাংলাদেশ সেখানে একটি ভাল দল হিসাবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং বাংলাদেশের ভাবমূর্তি আরও উজ্জ্বল হয়েছে। এখানে আমি বিশ্ব স্কাউট পরিবেশ সংরক্ষণ নেটওয়ার্কের কো-অর্ডিনেটর পলক্যাফারের সাথে পরিচিত ও নেটয়ার্ক যোগদানের জন্য কম্পিউটারে একটি পরীক্ষা দেই। ক্যাম্পের একটা খুব মজার ঘটনা না বলে পারছি না, সেটি হলো চা খেতে যেয়ে চিনি বা সুগার বলে তার অর্থ বুঝাতে না পেরে আমার জাপানী বন্ধুরা ডিকশনারী খুলে বসল। তার পর একটা প্যাকেট থেকে সাদা কয়েক চামচ চিনির মত পদার্থ আমার চায়ে দিল চিনি মনে করে মিলিয়ে খেতে যেয়ে দেখি লবণ।
একটি সুন্দর ক্যাম্প উপোভোগ করার পরে জাপানী কালচার প্রত্যক্ষভাবে শেখার জন্য আমাকে একটি হোস্ট ফ্যামিলিতে পাঠানো হলো অত্যন- সুন্দর একটি শহর ‘মিয়াজাকি’। সমুদ্রতীরবর্তী আমার হোস্ট ফ্যামিলির এই শহর। তাদের রীতি নীতি কালচারের সাথে সরাসরি জড়িত হতে পেরে সত্যিই আমি মুগ্ধ হয়েছি। হোস্ট ফ্যামিলির বিশদ বর্ণনা না দিয়ে সেখান থেকে ফেরার সময়কার ঘটনাটি বলছি। টোকিওতে ফিরে আসার সেই অসি-ম লগ্নে দেখি আমার হোস্ট মাদার কাঁদছেন। বিমানে ওঠার ঠিক আগে বললেন, “আবার ফিরে এসো। আমি তোমার অপেক্ষায় থাকব।” অত্যন- আবেগের বশবর্তী হয়ে আমিও কেঁদে ফেললাম। সে দৃশ্য আমি আজও ভুলতে পারিনি।
একটি কথা বলা হয়নি, ‘মিয়াজাকিতে’ আমি ‘ওয়াটার ডিজনীল্যান্ডে’ গিয়েছিলাম, আর টোকিওতে ফেরার পর গেলাম টোকিও তামা জুও ‘ডিজনীল্যান্ডে’ যা পৃথিবীতে অবসি’ত তিনটি ডিজনীল্যান্ডের একটি। সেখানকার কাহিনী বর্ণনা করতে গেলে হয়তো আমার এ লেখা আস- একটা বই এ রূপান-রিত হবে তাই, এক লাইনেই বলছি স্যার ওয়াল্টার ডিজনীর অনবদ্য সৃষ্টিকল্প কাহিনীর কার্টুনের সেই ‘মিকিমাউস’ ‘গুফি’ আর ডোনাল্ড ডাকের সত্যিকারের ভুবন হচ্ছে এই ডিজনীল্যান্ড। এখানে আছে রোলার কোস্টার, স্কাইওয়ে, ডিজনীক্যাসেল সহ আরও অনেক এডভেঞ্চার।
পরের দিন অর্থাৎ ১৪ তারিখ বিমান যোগে সিঙ্গাপুরে তিনদিন অবস’ান করে ঢাকা এসে পৌছালাম ১৮ তারিখ রাত প্রায় ২টায়। মাত্র নিজের ১৫,০০০/- টাকায় এরকম দেশ ভ্রমণের সুযোগ আমার আর আসবে কিনা জানিনা তবে ফিরে আসার পর আমার ঝুলিতে রয়ে গেল ভ্রমণের কিছু অদ্ভুত স্মৃতি, সকল খরচ বহনকারী ও আয়োজনকারী বয়স্কাউট অব নিপ্পনের দেওয়া একটি সুন্দর সার্টিফিকেট ও ব্রোঞ্জের একটি মূর্তি আর অনেক ভাল লাগা।
বি,এস,এন বয়স্কাউট অব নিপ্পন।

2 Responses to “সূর্যোদয়ের দেশে”

  1. mehdi says:

    Who is this? Who is this saleh. Plz. Ans me someone.

  2. admin says:

    dear mehdi vai,
    It is rizve. Apnake facebook e search koresi but pai nai. Ai saleh hosse umor er friend saleh who died in a road accident in coxsbazar He was a rover of Samatat he also took part 4th National COMDCA with us.

    Pls join in our facebook fan club.
    Thanks

Leave a Reply

You can use these tags: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <strike> <strong>